Home

Home post thumbnail image

অবতারণিকা

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين والصلاة والسلام على أشرف الأنبيآء وسيد المرسلين وعلى آله الطيبين وأصحابه الطاهرين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين ، أما بعد

সকল প্রশংসা জ্ঞাপন করছি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে, যিনি আমাদেরকে ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারণে সম্পৃক্ত হওয়ার তাওফীক দিয়েছেন।

দুরুদ ও সালাম পেশ করছি আল্লহ তাআলার বান্দা ও সর্বশেষ রসূল মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীদের উপর, তাঁদের সকলের উপর শান্তির অমিয় ধারা বর্ষিত হোক, আমীন!

যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত।

শিক্ষাই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করে।

আদর্শ সমাজ বিনির্মানে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

তবে এই শিক্ষা অবশ্যই হতে হবে কুরআন-সুন্নাহ্ ভিত্তিক আদর্শ ইসলামী শিক্ষা।

জ্ঞানার্জনের বিষয়ে পুরুষ বা নারী একজনকে অন্যের চেয়ে পিছিয়ে রাখার কোন সুযোগ নেই।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন’। (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৭১)
অর্থাৎ আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় ব্যক্তিদেরকেই তিনি দ্বীনি বুঝ দান করেন, সে পুরুষ কিংবা নারী; যেই হোক না কেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
দুনিয়া পুরাটাই সম্পদ। আর দুনিয়ার সেরা সম্পদ হলো, পুণ্যশীলা নারী। (সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১৪৬৭)

 

পৃথিবীতে সেরা সম্পদ পূণ্যবান নারী হওয়ার জন্য প্রয়োজন দ্বীনি জ্ঞান, কেননা দ্বীনি জ্ঞান ছাড়া কখনো পূণ্যবান পরহেযগার হওয়া সম্ভব নয়।

উপরুন্তু,

বাংলার জমিনে যখন নারী সমাজ পাশ্চাত্যের কালো থাবা ও সহশিক্ষার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন-কে ভুলে নারী স্বাধীনতার নামে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার সয়লাবে ভেসে যাচ্ছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে নারী সমাজকে রক্ষার জন্য এমন এক নারী শিক্ষা গড়ে তুলতে হবে, যেখান থেকে নারীজাতি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিতা হয়ে শিরক, বিদ্আত ও কুসংস্কার মুক্ত একটি সভ্য ও শিক্ষিতা আদর্শ নারী জাতি সমাজকে উপহার দিবে এবং ইসলামের সঠিক দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিবে।

যার ফলে মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন, বিশুদ্ধ আকীদা-বিশ্বাস, ইসলামী ও নৈতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ, ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা ও সভ্যতার পরিধি বিস্তৃতকরণ, ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়া দক্ষতার সাথে সম্পাদন করে আল্লাহ প্রদত্ত হুকুম-আহকাম ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ও আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত হবে নারীসহ সর্ব সমাজে।

বর্তমান জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্বীনি বিষয়ের স্বল্পতা, দীর্ঘমেয়াদী সিলেবাস, আবাসন সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা বিশেষ করে নারীদের জন্য দ্বীনি শিক্ষার পরিবেশকে অনেকটাই কঠিন ও জটিল করেছে।

বর্তমানে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও সহীহ দ্বীনি শিক্ষার এখনো যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

কিছুটা হলেও সে অভাব পূরণের লক্ষ্যে আমরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে দ্বীনি-ইলমের শিক্ষা মেয়েদের জন্যও প্রসারিত করতে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যতিক্রমী ধারায় রুচিশীল দ্বীনি অনুকুল পরিবেশে সৃজনশীল পাঠদান পদ্ধতিতে সঠিক ইসলামী জ্ঞানার্জনসহ আদর্শ মুসলিম নারী হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে যুগোপযোগী একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

অত্র ব্লগটির সাথে যারা সম্পৃক্ত থেকে দুআ, পরামর্শ ও সহায়তা করে যাচ্ছেন, তাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং দীর্ঘ নেক হায়াত ও উভয় জগতে উত্তম প্রতিদান কামনা করছি, আমীন!

এই ব্লগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং ইহকাল-পরকালের সার্বিক সফলতা অর্জন করা।

মাতৃ জাতির মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করা এবং ইসলামী ভাবধারায় ধর্মানুরাগী আদর্শ নারী সমাজকে উপহার দেয়া। দ্বীনদার পরহেযগার আদর্শ মুসলিম নারী হিসেবে গড়ে তোলা।

 

“খাওয়াতীন ব্লগ” কেন পড়বেন?

এটি শুধুই একটি ব্লগ নয়, বরং মুসলিম নারীদের আত্মউন্নয়ন, ঈমানি জীবনধারা, ও পর্দাশীল জ্ঞান চর্চার এক অনন্য সফরসঙ্গী।

পড়ার ৭টি কারণ:

১. ইসলামি নারীদের জন্য বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
– হাদীস, কুরআন ও উলামায়ে কেরামের আলোকে নারীর জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় আলোচনা করা হয়।

২. পর্দা ও আত্মমর্যাদার কথা বলে
– হিজাব, পর্দা, নারীর ইজ্জত—সব কিছু দীন ও বাস্তবতার দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

৩. প্রেরণামূলক লেখায় ভরপুর
– সাহাবিয়াতদের জীবনকাহিনি, আধুনিক মুসলিম নারীদের সাফল্যের গল্প আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

৪. শিক্ষণীয় প্রশ্নোত্তর সেকশন
– নারীদের গোপন, জটিল ও সংবেদনশীল প্রশ্নের সহজ ইসলামি সমাধান।

৫. আত্মউন্নয়ন ও সময় ব্যবস্থাপনা
– একটি মুসলিম নারী কীভাবে সময়, ঘর ও নফসকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন—তা শেখানো হয়।

৬. গৃহস্থালি ও মা হিসেবে নারীর ভূমিকা
– ঘর, সন্তান, স্বামী ও পরিবার—সবকিছুতেই ভারসাম্য রাখার বাস্তবপরামর্শ।

৭. বাংলা, ইংরেজি ও আরবি—তিন ভাষার সংমিশ্রণ
– যারা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি ভাষার প্রতি আগ্রহী, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।

নিজে উপকৃত হোন,
অন্যকে শেয়ার করে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিন।