সন্তান বা ছাত্র গঠনের অন্যতম মূল সমস্যা: এডিকশন
সন্তান বা ছাত্রকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কঠোরতা বা কোমলতার তুলনায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো এডিকশন (আসক্তি)।
যে কোনো ধরনের এডিকশন—মোবাইল, গেমস কিংবা মাদক—মানুষের চিন্তা, সময় ও শক্তি গ্রাস করে অন্য সবকিছু বিলীন করে দেয়।
তাই শুরু থেকেই এসবের সংস্পর্শ থেকে শিশুদের দূরে রাখা জরুরি।
শিশুর হাতে সহজে মোবাইল বা গেমস তুলে দিয়ে তাদের অভ্যস্ত করা, আর পরে দোষারোপ করা কোনো সমাধান নয়।
আরেকটি বিষয়, আমাদের ছোট অভিজ্ঞতায় — যত অনিষ্ট ও গর্হিত কাজ ঘটে তার অধিকাংশই নামাযের গাফলতি থেকে।
তাই #সমাধান হলো—
#নামাযের_গুরুত্ব: সময়মত নিয়ময়ত নামায, ইবাদত আদায়ে গুরুত্ব দিয়ে সচেষ্ট হতে হবে।
আমার নিজের ও পরিবার এবং সন্তান বা ছাত্র সময়মত নিয়ময়ত নামায ও ইবাদত করছে কি না—এটা দেখভাল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ,
নামায মানুষকে সব ধরনের অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন—
“নামায নিশ্চয়ই অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত: ৪৫)
#সৎসঙ্গ: নেককার ও সৎ পরিবেশে রাখা।
#আদব_শিষ্টাচার: নিজে, পরিবার ও সন্তানের আদব শিষ্টাচার পালন করাতে অভ্যস্ত হতে হবে।
আদব সৌভাগ্যের সোপান।
অনেক পরিবারে স্বামী স্ত্রীর আদব শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকান্ড থেকে সন্তানরা আদব শিষ্টাচার শেখে না, গড়ে উঠে না।
#তাকওয়া: আল্লাহভীতি ও পরহেযগারির শিক্ষা দিয়ে লালন-পালন করা।
#হালাল_ইনকাম: হালাল ইনকাম না হলে সন্তান অবাধ্য হয়। অনেকেই বলতে পারেন, আমি দ্বীনদার, আমার ইনকাম হালাল, তারপরও সন্তান অবাধ্য।
না, ভাই! আপনি ভালো করে তাহকীক ও যাচাই করুন, দেখুন আপনার ইনকামে কোন হারামের অনুপ্রবেশ ঘটেছে কিনা!
বেশি বেশি #দুয়া: খুব বেশি বেশি করে দুয়াকরতে হবে।
এরপরও নিরাশা নয়, মূলত হেদায়েত মহান আল্লহ তাআলার হাতে।
হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সন্তান তো ঈমান আনেনি।
এককথায়— নিজের ও সন্তানের তাকওয়ার অনুপস্থিতিই সকল অনিষ্টের মূল।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক তাওফীক দান করুন।
আমীন।
