কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?
কখন কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?
সব সমাজেই এসব বিষয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুসলমানরা এসব প্রসঙ্গের সমাধান করেছেন খুবই ব্যবহারিক জায়গা থেকে।
ক) নবীজি বলেন, প্রত্যেক নরনারীর জন্য ইলম অর্জন করা ফরজ/আবশ্যক।
ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম পালন করতে যতটুকু ইলম জরুরি, ততটুকু ইলম শিক্ষা করা ফরজে আইন। সামাজিক জীবনে ইসলাম পালন করতে যতটুকু ইলম জরুরি, সমাজের জন্য সম্মিলিতভাবে ততটুকু ইলম অর্জন করা ফরজে কেফায়া।
খ) ওলামায়ে কেরাম ফরজে আইন ইলমকে তুলনা করেছেন খাবারের সাথে, খাবার ছাড়া দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে যাবে। পাশাপাশি, ফরজে কেফায়া ইলমকে তুলনা করেছেন ঔষুধের সাথে—প্রতিদিন ঔষুধের প্রয়োজন নেই, তবে অসুখ করলে ঔষুধের বিকল্প নেই। খাবার লাগবে প্রতি ঘরে ঘরে, তবে সবার ঘরে সব ঔষুধ রাখার প্রয়োজন নেই-সুযোগও নেই। এলাকায় এক-দুইটা ফার্মেসি থাকাই যথেষ্ট। এক-দুইটা ফার্মেসিতে সবার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যাবে।
গ) ফরজে আইন ইলমের কিছু দৃষ্টান্ত
— প্রতিদিন নামাজ পড়া ফরজ। কাজেই, নামাজ পড়তে যেসব মাসায়েল জানা জরুরী, সেগুলো শেখা ফরজে আইন।
— বছরে একমাস রোজা রাখা ফরজ, বেশী টাকা থাকলে যাকাত দেওয়া ফরজ। রোজার সময় আসলে রোজার জরুরী মাসায়েল জানা ফরজে আইন। বেশী টাকা থাকলে বছর শেষে জাকাতের মাসায়েল জানা ফরজে আইন।
—পাশাপাশি, সবাই প্রতিদিন বিভিন্ন লেনদেন করেন, পেশাগত ব্যস্ততায় জড়িত হন, এসব বিষয়ের জরুরী মাসায়েল জানাও ফরজে আইন।
— প্রতিনিয়ত আমাদেরকে আখলাকের পরীক্ষা দিতে হয়। মনে ভালো কথা আসে, খারাপ চিন্তা আসে—এসবের জরুরী দিকগুলো জানাও ফরজে আইন।
ঘ) ইমাম মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহকে লোকজন ধরে বসলো—আপনি দুনিয়াবিমুখতা নিয়ে কোন বই লেখেন। ইমাম সাহেব উত্তর দিলেন, ‘আমি লেনদেন নিয়ে বই লেখেছি।’ এই কথাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লেনদেনে নয়-ছয় করলে দুনিয়াবিমুখতার কোন অর্থ হয় না। লেনদেন-পেশাজীবনের মধ্যেই মানুষের আখলাক-ধর্মবোধের প্রকৃত অবস্থা ফুটে ওঠে, কাজেই লেনদেন-পেশাজীবনে স্বচ্ছতার কোন বিকল্প নেই।
(তা’লীমুল মুতাআল্লিম থেকে)
Tamjid khan
