অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন প্রশ্ন ও বিষয় সম্পর্কে
হযরত মুফতী শফী (রহ.)-এর কর্মপন্থা — হযরত শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকি উসমানী দা.বা.-এর বর্ণনায়:
হযরত আব্বাজান মুফতী শফী সাহেব (রহ.)-এর বিশেষ অভ্যাস ছিল এই যে, এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি উৎসাহ দিতেন না — যেসব প্রশ্নের সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো বাস্তব উপকার বা আমলী ফলাফল জড়িত নয়।
কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে দেখা গেছে যে, মানুষের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা গড়ে উঠেছে—
দ্বীনের সেই বাস্তব ও আমলী বিষয়গুলো, যেগুলোর ওপর জীবনের সংশোধন ও পরকালের মুক্তি নির্ভর করে, সেগুলো থেকে তারা উদাসীন ও বেখবর থাকে; কিন্তু তার পরিবর্তে নিরর্থক তাত্ত্বিক বিতর্কে সময় নষ্ট করে, এমনকি এসব ভিত্তিহীন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষ সৃষ্টি করে বসে— যা মুসলিম সমাজে বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা ডেকে আনে।
হযরত আব্বাজান (রহ.) এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে সাধারণত ফতোয়া লেখার পরিবর্তে এমন উপদেশ লিখে দিতেন, যাতে প্রশ্নকারীর মধ্যে আমলের প্রতি মনোযোগ ও আখিরাতের চিন্তা জাগ্রত হয়।
যেমন,
একবার কেউ প্রশ্ন করল—
> “ইয়াজিদের মাফ হবে কি হবে না?”
হযরত উত্তরে লিখলেন—
> “ইয়াজিদের মাফ হওয়ার চিন্তা না করে আগে নিজের মাফ হওয়ার চিন্তা করা উচিত।”
আরেক ব্যক্তি কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির কিছু কথা উল্লেখ করে জিজ্ঞেস করল—
> “এই কথাগুলোর কারণে কি তিনি ফাসিক (অপরাধী) হয়ে গেছেন?”
হযরত উত্তর দিলেন—
> “আমি এখনো নিজের ফাসিক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারিনি, তাহলে অন্যের ব্যাপারে কীভাবে ফয়সালা করব?”
সুতরাং, যদি কখনও জনসাধারণের পক্ষ থেকে এমন সব প্রশ্ন আসত— যেমন,
‘আরশ শ্রেষ্ঠ না রওযা-ই আকদাস (নবীজির মজার শরীফ)?’
‘হযরত খিজির (আ.) জীবিত না ইনতিকাল হয়ে গেছেন?’
‘যুলায়খার সঙ্গে হযরত ইউসুফ (আ.)-এর বিবাহ হয়েছিল কি না?’
‘আসহাবে কাহফের সঠিক সংখ্যা কত ছিল?’
‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পিতা-মাতা মুমিন ছিলেন কি না?’
‘নবীজির শরীর থেকে নির্গত জিনিসগুলো পবিত্র ছিল কি না?’
এবং হযরতের ধারণা হতো যে, এসব প্রশ্ন কেবল বিতর্ক ও অনর্থক আলোচনার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে—
তাহলে সাধারণত তিনি উত্তর না দিয়ে লিখতেন:
> “এই বিষয়গুলো জানার ওপর ঈমান বা আমলের কোনো বিষয় নির্ভর করে না। এসব অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সময় নষ্ট না করে এমন কাজ করুন, যা আখিরাতে আপনার উপকারে আসবে।”
কখনও কখনও তিনি কেবল সংক্ষিপ্তভাবে এই হাদীস উদ্ধৃত করে উত্তর দিতেন—
> “من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه”
অর্থাৎ, “একজন মানুষের উত্তম মুসলমান হওয়ার অন্যতম নিদর্শন হলো— সে অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন বিষয় পরিত্যাগ করে।”
আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে উক্ত বিষয়ে সঠিকভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন আমীন!
