post thumbnail image

 নারী কি পুরুষের সমান অধিকার চাবে? কেন চাবে?

ইসলাম নারীকে কেবল “সমান” নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকারভিত্তিক অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে।

❖ ইসলাম নারীর অধিকারকে ‘সমান’ নয়, স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পুরুষ ও নারীকে আলাদা স্বভাব, গঠন, দায়িত্ব ও অধিকার দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ।

📖 কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি:

﴿وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنثَى﴾
“পুরুষ নারীসমান নয়।”
— (সূরা আলে ইমরান: ৩৬)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরকারগণ বলেন,
নারী ও পুরুষ আলাদা গঠনে সৃষ্টি — তাদের দায়িত্ব, মানসিকতা, এবং প্রভাবও আলাদা। তাই তাদের অধিকারও “স্বাতন্ত্র্য ও সুবিচার”-এর ভিত্তিতে আলাদা।

ইসলাম নারীদের কী কী বিশেষাধিকার দিয়েছে?

১. নারী পরিবারের কেন্দ্রে — তাকে বাহ্যিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি:

  • নারীর উপর জীবিকার ভার নেই।
    দলীল:

    الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ
    “পুরুষেরা নারীদের রক্ষণাবেক্ষণকারী।”
    — (সূরা নিসা: ৩৪)

    ইবনে কাসীর বলেন, “পুরুষের উপর নারীর খরচ, নিরাপত্তা ও দেখাশোনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।”

২. নারী বাবার ঘরে রাজকন্যা

  • নারীর যাবতীয় খরচ বাবার দায়িত্ব।
  • নারী যদি বিবাহ না করেন, তাহলে মৃত্যু পর্যন্ত বাবার দায়িত্বেই থাকবেন।

দলীল:

“তিন কন্যা বা তিন বোন অথবা দুই কন্যা বা দুই বোন যার থাকবে এবং সে তাদের উত্তমভাবে প্রতিপালন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
— (তিরমিজি, হাদীস: ১৯১৬)

এ হাদীস নারীর প্রতি দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রমাণ।

৩. বিয়ের পর স্বামীর ঘরে রাজরানী

  • স্ত্রীর সম্পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর।
  • স্ত্রী ঘরের রাণী, তাকে বাইরে কাজ করে খরচ চালাতে হয় না।

দলীল:

“তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের উপর হক রাখে, যেমন তোমাদেরও তাদের উপর হক রয়েছে।”
— (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১২১৮)

৪. সন্তানের কাছে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা সম্পন্ন জননী

বিখ্যাত হাদীস:

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, “হে আল্লাহর রাসূল! কার প্রতি আমার সদ্ব্যবহার সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য?”
রাসূল ﷺ বললেন: “তোমার মা।”
লোকটি বলল, তারপর কে?
তিনি বললেন: “তোমার মা।”
আবার বলল, তারপর কে?
বললেন: “তোমার মা।”
আবার বলল, তারপর?
বললেন: “তোমার বাবা।”
— (সহীহ বুখারি: ৫৯৭১, সহীহ মুসলিম: ২৫৪৮)

এই হাদীস মা হিসেবে নারীর মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব বোঝায়।

৫. নারী সম্পত্তির অধিকারী — নিজস্ব মালিকানা

দলীল:

﴿لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ﴾
“পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়গণ যা রেখে যায়, তাতে পুরুষের যেমন অংশ রয়েছে, তেমনি নারীদেরও রয়েছে অংশ।”
— (সূরা নিসা: ৭)

নারী স্বামীর, বাবার, ছেলের, ভাইয়ের — সব দিক থেকেই উত্তরাধিকার পায়।

তাহলে এখন প্রশ্ন আসে — “সমান অধিকার” চাইবে কেন?

যেখানে নারীকে জীবিকার ভার দেওয়া হয়নি, অথচ তাকে ভরণপোষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
যেখানে নারী উত্তরাধিকার পায়, কিন্তু তার সম্পদে কাউকে খরচ করতে হয় না।
যেখানে মা হিসেবে পুরুষের তিনগুণ বেশি মর্যাদা তার।
যেখানে স্বামী তার খাদেম, রক্ষক এবং ভরণপোষণকারী — নারী দায়মুক্ত।

তাহলে নারী যদি “পুরুষের সমান” হতে চায় —
তবে কি এই সব অতিরিক্ত অধিকার হারাতে চায়?

“নারী স্বাধীনতা” আন্দোলনের নামে পশ্চিমা ধোঁকা

পাশ্চাত্যে নারীকে বাহ্যিক স্বাধীনতা দিলেও:

  • ঘরের শান্তি নেই,
  • মাতৃত্বের মর্যাদা নেই,
  • ভরণপোষণের নিরাপত্তা নেই,
  • বয়সে বৃদ্ধ হলে নিঃস্ব ও একাকী।

ইসলাম নারীর জন্য যে মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানজনক, নিরাপদ ও পূর্ণ মানবিক জীবন পদ্ধতি দিয়েছে —
তা কোনো মানব-রচিত নীতিতে নেই।

ইসলামী দৃষ্টিকোণে নারী-পুরুষ সম্পর্কের মূলনীতি:

সাদৃশ্য নয়, সমতা নয়, বরং সুবিচার ও ভারসাম্য।
নারী-পুরুষ একে অপরের সহায়ক — একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।

দলীল:

﴿وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾
“তাদের (নারীদের) জন্য রয়েছে যেমন দায়িত্ব, তেমনি তাদের জন্য অধিকার রয়েছে প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে।”
— (সূরা বাকারা: ২২৮)

উপসংহার:

ইসলাম নারীকে সমান নয়, উচিৎ ও সম্মানজনক অধিকারে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নারী “সমান অধিকার” চাইলে সে অধিক মর্যাদার আসন থেকে কমে যেতে বাধ্য হবে।
নারী যেন তার আসল অধিকার ও মর্যাদা বুঝে নিজেকে রক্ষা করে।

 

আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন আমীন।

Leave a Reply

Related Post

শালীনতাই মর্যাদাশালীনতাই মর্যাদা

“শালীনতাই মর্যাদা” — এই বাক্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও গভীর অর্থবোধক। এর ব্যাখ্যা হতে পারে: “যার মধ্যে শালীনতা আছে, প্রকৃত মর্যাদাও তার মধ্যেই নিহিত।” অর্থাৎ, একজন মানুষের প্রকৃত সম্মান বা মর্যাদা তার

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর প্রতি নসীহতদাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর প্রতি নসীহত

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর প্রতি নসীহত – ফকীহুল আসর, মুফতিয়ে আজম, ইমামে রাব্বানী, হযরত মুফতী রশীদ আহমদ (রহঃ) যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ তাকওয়া (আল্লাহভীতি ও ধর্মনিষ্ঠতা) অর্জিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত দাম্পত্য

ভালো মায়ের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকেভালো মায়ের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে

কথায় আছে মা ভালো হলে সন্তানও ভালো হয়৷ কথাটা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। একজন ভালো মায়ের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে আসুন জেনে নিই। • ১. একজন ভালো মা সন্তানের সামনে কখনো