ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক post thumbnail image

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক

ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে।
ইসলামে নারী-পুরুষ অধিকাংশ হুকুমে সমান; ব্যতিক্রম কেবল সেসব জায়গায় যেখানে শরীয়ত বিশেষভাবে আলাদা করেছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্ট করে বলেছেন

“নারীরা পুরুষদের সহোদরা।” (তিরমিজি)

অর্থাৎ, নারী-পুরুষ সমান মর্যাদাসম্পন্ন, একে অপরের সম্পূরক।

ইমাম তিরমিজি রহিমাহুল্লাহ তাঁর সুনানে হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন,
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ
إِنَّ النِّسَاءَ شَقَائِقُ الرِّجَالِ
“নারীগণ পুরুষদের সহোদরা।”
أخرج الإمام الترمذي في “سننه” عَنْ عَائِشَةَ أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «إِنَّ النِّسَاءَ شَقَائِقُ الرِّجَالِ»؛

আল্লামা মুল্লা আলী আল-কারি رحمه الله বলেনঃ
أي: نظائرهم في الخلق والطبائع، كأنهن شُقِقْنَ منهم، ولأن حواء شُقَّتْ من آدم، وشَقِيق الرجل أخوه من أبيه وأمه؛ لأنه شُقَّ نسَبُه من نسَبِه.. (العلامة علي القاري في “مرقاة المفاتيح” 2/ 428، ط. دار الفكر)
“অর্থাৎ তারা সৃষ্টিতে ও স্বভাব-প্রকৃতিতে পুরুষদের সমতুল্য, যেন তাদের মধ্য থেকে বিভক্ত করা হয়েছে। কেননা হাওয়াকে আদম আ. থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন একজন ব্যক্তির ‘শাকীক’ (সহোদর) হলো সেই ভাই, যে তার পিতা-মাতার উভয়ের শরিক—কারণ তার বংশ একই সূত্র থেকে বিভক্ত। (মিরকাতুল মাফাতীহ, ২/৪২৮, দারুল ফিকর)

ইমাম খাত্তাবী বলেছেনঃ
في الحديث من الفقه إلحاق النظير بالنظير، وأن الخِطاب إذا ورد بلفظ الذكور كان خطابًا للنساء، إلا في مواضع مخصوصة اهـ.
এ হাদীসের ফিকহি তাৎপর্য হলো, সমান জিনিসকে সমান জিনিসের সাথে যুক্ত করা হয়, আর যখন خطاب (সম্বোধন) পুরুষের صيغة (রূপে) আসে তখন তা নারীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে—তবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ব্যতীত।”

এই অর্থকে নিশ্চিত করেছেন আল্লামা যায়নুদ্দীন মুনাওয়ী رحمه الله। তিনি বলেনঃ
النساء شقائق الرجال، كما هو مطرد في جُل الأحكام؛ حيث يدخُلْنَ مع الرجال تبعًا، إلا ما خَصَّه الدليل] اهـ. (العلامة زين الدين المناوي؛ في “فيض القدير” 3/ 333، ط. المكتبة التجارية الكبرى).
“নারীগণ পুরুষদের সহোদরা, যেমনটি অধিকাংশ শরয়ি হুকুমে চালু আছে—যেখানে নারীগণ পুরুষদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হন অনুসারী হিসেবে, তবে যে বিষয়কে দলীল দ্বারা বিশেষভাবে পৃথক করা হয়েছে তা ছাড়া।”
(ফাইযুল কাদীর, ৩/৩৩৩, আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাতুল কুবরা)

অর্থাৎ, ইসলামী দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে মৌলিক হুকুম-আহকামে সমতা রয়েছে; শুধু যেসব ক্ষেত্রে শরীয়ত আলাদাভাবে ব্যতিক্রম করেছে, সেগুলো ছাড়া।

এর মানে হলো—

নারী-পুরুষ দুজনই আল্লাহর সৃষ্টি ও স্বভাবে সমান।

যেমন হাওয়া আ. আদম আ.-এর অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছেন, তেমনি নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক।

ইসলামী বিধান বা হুকুম যখন পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, তখন সাধারণভাবে তা নারীদের জন্যও প্রযোজ্য হয়।

শুধু কিছু নির্দিষ্ট হুকুম আছে, যেখানে আলাদা করে নারী বা পুরুষের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষণীয় বার্তা

1. মানবীয় মর্যাদায় সমতা

নারী-পুরুষ দুজনই আল্লাহর সৃষ্টি এবং মর্যাদায় সমান।

নারীকে পুরুষের শাখা বা অংশ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই দুজনের সম্পর্ক হলো পারস্পরিক পরিপূরকতার।

2. ধর্মীয় হুকুমে সমতা

ইসলামের অধিকাংশ বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

সাধারণভাবে কোরআন ও হাদীসে পুরুষদের উদ্দেশ্যে خطاب (সম্বোধন) করা হলেও, তা নারীদের জন্যও প্রযোজ্য।

3. বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম

কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে শরীয়ত নারী ও পুরুষকে আলাদা করেছে (যেমন: হিজাব, ইদ্দত, জিহাদ ইত্যাদি)।

এসব ব্যতিক্রম মানব ফিতরাহ ও সামাজিক কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

4. পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা

নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহকর্মী ও সহযোগী।

পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা সমাজ ও পরিবারের মূলভিত্তি।

মূল বার্তা:
ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে অধিকাংশ বিষয়ে সমতা রয়েছে।
কেবল কিছু নির্দিষ্ট হুকুমে শরীয়ত ভিন্নতা দিয়েছে, যা উভয়ের স্বভাব, দায়িত্ব ও কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক বোধদয় দান করুন এবং উভয় শ্রেণীর যথা অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট হতে তাওফীক দান করুন আমীন।

  • মুফতী মাসুম বিল্লাহ।

Leave a Reply

Related Post

দ্বীনি মাদরাসা রক্ষার গুরুত্বদ্বীনি মাদরাসা রক্ষার গুরুত্ব

দ্বীনি মাদরাসাগুলো আমাদের পরিচয়: আমরা এই পরিচয়কে ধ্বংস হতে দিব না —আমিরুল হিন্দ মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী মাদরাসা থেকেই সর্বপ্রথম ইংরেজদের দাসত্ব: মুক্তির আওয়াজ উঠেছিল। মাদরাসাগুলো আমাদের দ্বীন; দুনিয়া নয়।

গৃহস্থালি কাজে নারীর করণীয়গৃহস্থালি কাজে নারীর করণীয়

  গৃহস্থালি কাজে নারীর করণীয়: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ভূমিকা ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখানে জীবনের প্রতিটি দিকের নির্দেশনা রয়েছে। পরিবার গঠনে নারীর যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি গৃহস্থালি কাজেও তাঁর দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?

কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন? কখন কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন? সব সমাজেই এসব বিষয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুসলমানরা এসব প্রসঙ্গের সমাধান করেছেন খুবই ব্যবহারিক জায়গা থেকে। ক) নবীজি