🌸 দীনী উদ্দেশ্যে নারীদের সাথে যোগাযোগ – সতর্কতা ও নসীহত 🌸
ধর্মপ্রাণ ছাত্রী ও দ্বীনদার নারীরা যখন কাউকে বুযুর্গ মনে করে তার সঙ্গে মৌখিক বা লিখিতভাবে যোগাযোগ করেন, তখন তা সাধারণতঃ তাদের প্রশংসনীয় দ্বীনি আগ্রহেরই পরিচয় বহন করে। তাঁদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া একান্ত প্রয়োজনও বটে। এসব নারী সাধারণতঃ সজ্জন, পবিত্র হৃদয় ও সহজ-সরল হয়ে থাকেন, এবং তাঁরা আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসা ও আখিরাতের প্রস্তুতির নিয়তে কারও শরণাপন্ন হন।
❗ কিন্তু…
পুরুষরা সাধারণত এমন সরল ও পবিত্র হৃদয়ের হয় না। তাদের মনে সহজেই যৌন ও কুপ্রবণ চিন্তা প্রবেশ করে। শয়তান ও প্রবৃত্তি তাদের সে দিকেই টেনে নিয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে তারা পাপের দিকে পা বাড়াতে শুরু করে।
নারীদের আবেগ—বিশেষ করে প্রেম বা ঘৃণার—বেশি প্রবল হয়। তারা স্বভাবতই ভালোবাসে এবং ভালোবাসা পেতে চায়। কিন্তু এ ভালোবাসা কতটা আল্লাহ ও রাসূলের জন্য এবং কখন তা পরিণত হয় একজন পরপুরুষের প্রতি আকর্ষণে—তা তারা নিজেরাও বুঝে ওঠে না। পক্ষান্তরে, একজন পুরুষের দৃষ্টিতে ভালোবাসা মানে হয় কেবল সেই অর্থ, যা তাকে তার প্রবৃত্তি ও শয়তান বুঝিয়ে দেয়।
এই কারণেই, দীনদার পুরুষ ও নারীর মাঝে যে কোনো স্তরে গিয়ে বড় গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা সোজা পথ (صراط المستقیم) থেকে সরিয়ে গোনাহর গভীর খাদে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে অবিবাহিত বা পারিবারিক জীবনে হতাশ নারীদের ক্ষেত্রে, নামাহরাম পুরুষের প্রতি তাঁদের বৈধ দীনী আকর্ষণও খুব দ্রুত অবৈধ প্রেমে পরিণত হতে পারে—তাদের অজান্তেই।
🔹 পূর্বসূরী বুযুর্গদের সতর্কতা:
আমাদের বুযুর্গরা এসব বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
হযরত থানভী (রহ.) কোনো নারীর দীনী চিঠি তখনই গ্রহণ করতেন যখন তা তাঁর স্বামীর সাক্ষর করা থাকত, অর্থাৎ তার স্বামীর দৃষ্টির ভেতর দিয়ে তা অতিক্রান্ত হয়েছে।
✍️ লেখকের নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান:
দীর্ঘদিন ধরে আমি দারুল ইফতা’র সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার সুবাদে বহু ঘটনা আমার চোখের সামনে দিয়ে গেছে। অনেক বুযুর্গের দীনী সম্পর্ক কীভাবে ধীরে ধীরে অবৈধ সম্পর্কে রূপ নিয়েছে, তাও আমি দেখেছি।
আমি কখনোই আমার কু-প্রবৃত্তির উপর আস্থা রাখিনি, এজন্য আমি সবসময় নারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ থেকে বিরত থাকি এবং তাঁদেরকে একটি লিখিত উত্তর পাঠিয়ে দেই।
🏠 নারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা:
এটা এক বড় সত্য—যদি পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কোন বুযুর্গ ও আল্লাহওয়ালার সাথে আত্মিক সম্পর্ক থাকে, তাহলে পরিবারের নারী সদস্যদের স্বাভাবিকভাবেই দ্বীনী সংশোধন হতে থাকে।
নারীদের আলাদা করে বায়াত বা ইরশাদের প্রয়োজন পড়ে না।
সুতরাং পরিবারের পুরুষরা যদি অগ্রগণ্য ও সৎ দ্বীনি জীবনযাপন করে, তখন পুরো পরিবারেরই দ্বীনী সংশোধন সহজ হয়।
✉️ একজন নারীকে লেখকের প্রতিক্রিয়া — “احقر کا مکتوب“
প্রাপক: প্রিয় বোন (আল্লাহ আপনার হেফাজত করুন)
السلام علیکم ورحمة الله وبركاته
আপনার চিঠি পেলাম। আপনার দ্বীনি আগ্রহ প্রশংসার যোগ্য।
আল্লাহ আপনাকে কল্যাণময় জ্ঞান দান করুন এবং আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন দান করুন। আমিন।
আপনি এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। এইভাবে চিঠি লেখালেখি করা আপনার জন্য অনুচিত।
আপনার উচিত মনোযোগ দিয়ে দ্বীন ও দুনিয়ার শিক্ষা অর্জন করা, যাতে আপনার জীবন সফল হয়।
বড় হয়ে, বিবাহিত হওয়ার পর এবং স্বামীর অনুমতির মাধ্যমে আপনি কোনো বুযুর্গের সাথে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন।
বর্তমানে আপনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলুন—
✅ করণীয়:
- নামায: সময়মতো ও নিয়মিত নামায আদায় করুন, গাফিলতি করবেন না।
- কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন এক পারা করে হলেও তিলাওয়াত করুন।
- দোয়া পাঠ: মুনাজাতে মাকবুল (আরবি/উর্দু) থেকে প্রতিদিন একটি অধ্যায় পড়ুন।
- গৃহস্থালি কাজ: রান্না, সেলাই, কাঁটাছেঁড়া ইত্যাদি শেখার চেষ্টা করুন—আগত জীবনে উপকারে আসবে।
- স্বনির্ভরতা: নিজের ও ঘরের কাজ নিজেই করতে শিখুন, যেন কাউকে কষ্ট না দিতে হয়।
- পরিবারের প্রতি দয়া: মা-বাবা ও ঘনিষ্ঠ মাহরামদের সুখ দেয়ার চেষ্টা করুন, তাদের কষ্ট দেওয়া বড় গুনাহ ও দুর্ভাগ্যের কারণ।
- শুকরিয়া ও দোয়া: যে কোনো নিয়ামত পেলে সাথে সাথে শোকর আদায় করুন।
যা কিছু চাওয়ার থাকে—হাত তুলে কিংবা অন্তরে—শুধু আল্লাহর কাছেই চাইতে থাকুন।
والسلام
দোয়া প্রার্থী: মাহমুদ আশরাফ উসমানী
২১ জমাদিউস সানী ১৪৩৫ হিজরী
🔚 উপসংহার:
এই লেখাটি বর্তমান সময়ে দীনদার পুরুষ ও নারী—উভয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নসীহত। ইসলামি পরিবেশে “ইখতিলাত” বা নারীদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সম্পর্কের খতি কত মারাত্মক হতে পারে, তার বাস্তবচিত্র এটি। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজতে রাখুন এবং শরিয়তের সীমারেখা রক্ষা করে চলার তাওফিক দিন।
آمين يا رب العالمين
বইয়ের নাম: احباب کے لیے مضامینِ تصوف (পৃষ্ঠা ৬৭-৭০)
লেখক: মুফতি মাহমুদ আশরাফ উসমানী সাহেব (দা.বা.)
প্রকাশক: ইদারা ইসলামিয়াত, করাচি-লাহোর
دینی مقاصدکےلیےخواتین سےرابطہ رکھنا !
- •••••••••••••••••••
نیک دل طالبات اور دیندار خواتین کسی کو بزرگ سمجھ کر اس کی طرف زبانی یا تحریری طور پر رجوع کرتی ہیں، ان کا دینی جذبہ بالعموم قابلِ قدر ہوتا ہے، اور انہیں دینی رہنمائی کی ضرورت بھی ہوتی ہے۔ یہ سب خواتین قابلِ احترام اور پاک دامن اور سادہ دل ہوتی ہیں، اللہ رسول کی محبت اور اپنی آخرت کی تیاری کی وجہ سے رجوع کرتی ہیں…مگر عام طور سے مرد ایسے پاک دامن صاف دِل نہیں ہوتے، مردوں کے دل دماغ میں شہوانی اور جنسی خیالات بآسانی آجاتے ہیں، نفس اور شیطان انہیں شہوانی اور جنسی خیالات کی طرف بآسانی راغب کر دیتا ہے اور وہ دھیرے دھیرے گناہ کی طرف بڑھنا شروع ہو جاتے ہیں…خواتین میں محبت یا نفرت کا جذبہ غالب اور شدید ہوتا ہے، خواتین طبعی طور پرمحبت کرتی ہیں اورمحبت ہی کی خواہشمند ہوتی ہیں۔ مگر یہ محبت کہاں تک اللہ رسول کی محبت ہے اور کس مرحلہ پر جا کر اجنبی مرد کی محبت میں تبدیل ہو جاتی ہے، سادہ دِل ہونے کی وجہ سے اس کا خود انہیں بھی انداز نہیں ہوتا جب کہ مرد محبت کا مطلب وہی سمجھتا ہے جو اُس کانفس اور شیطان اُسے سمجھاتا ہے، اس لیے کسی بھی مرحلہ پر جا کر دونوں سخت گناہوں میں مبتلا ہو جاتے ہیں یا مبتلا ہو سکتے ہیں اور صراطِ مستقیم اور سلوک الی اللہ کے بجائے گناہوں کی دلدل کی طرف بڑھنا شروع ہو جاتے ہیں، خاص طور پر کنواری خواتین یا وہ خواتین جو اپنے گھر یا گھر والوں سے نالاں ہوں، نامحرم مرد سے اُن کی جائز محبت بہت جلد ناجا ئز محبت میں تبدیل ہو سکتی ہے اور انہیں خود اس کا اندازہ بھی نہیں ہو پاتا۔ اس لیے تمام اکابر نامحرم خواتین سے دینی تعلق رکھنے میں بہت زیادہ محتاط تھے۔ حضرت تھانویؒ کسی خاتون کا دینی خط بھی صرف اس وقت قبول کرتے تھے جب اس پر اس کے شوہر کے دستخط ہوں یعنی اس خاتون کا وہ خط اس کے شوہر کی نگاہ سے گزر چکا ہوں۔
احقر کا طویل عرصہ سے دارالافتاء سے تعلق ہے، وہاں مختلف واقعات نظروں کے سامنے گزرتے رہتے ہیں اور یہ کہ کسی طرح بعض مشائخ کا خواتین سے دینی تعلق آہستہ آہستہ ناجائز تعلق میں تبدیل ہوا، سامنے آتے رہتے ہیں۔ خود احقر کو کبھی بھی اپنے شرارتی نفس پر بھروسہ نہیں ہو سکا، اس لیے احقر خواتین سے ذاتی طور پر ہمیشہ معذرت کر دیتا ہے اور ایک تحریر شدہ خط انہیں بھیج دیتا ہے۔
یہ ایک بڑی حقیقت ہے کہ اگر گھر کے سربراہ اور گھر کے ذمہ دار مردوں کا کسی بزرگ الله والے سے اصلاحی تعلق ہو تو اس گھر کے بچوں اور خواتین کی دینی اصلاح و تربیت خود ہوتی رہتی ہے اور بچوں اور خواتین کو علیحدہ سے بیعت و ارشاد کی ضرورت نہیں رہتی، لہٰذا اگر گھر کے تمام مرد حضرات اکابر علماء و مشائخ سے تعلق رکھیں اور حکمت و موعظہ حسنہ کے ساتھ زندگی گزاریں تو گھر کی خواتین کی اصلاح خود بخود ہو جاتی ہے۔ بہرحال کچھ عرصہ قبل مدارس بنات کی طالبات اور کچھ خواتین کی طرف سے مجھے خطوط موصول ہونے شروع ہوئے کہ ہم آپ سے اصلاحی تعلق قائم کرنا چاہتی ہیں، احقر نے ایک جواب تحریر کیا، جو ہر ایک خط کے جواب میں بھیجا جا تا رہا، جو یہ ہے:
احقر کا مکتوب
عزیزہ سلمها الله تعالیٰ
السلام علیکم ورحمۃ اللہ و برکاتہ
آپ کا خط ملا۔ آپ کا دینی جذبہ قابل قدر ہے۔ اللہ تعالیٰ آپ کو علم نافع عطا فرمائے اور آپ کو دنیا و آخرت میں عافیت کے ساتھ بہترین زندگی عطا کرے۔ آمین
آپ ابھی نو عمر ہیں، آپ کا اس طرح خط و کتابت کرنا مناسب نہیں۔ آپ دلجمعی سے دینی اور دنیوی تعلیم حاصل کریں تا کہ آپ کی دنیا و آخرت درست ہو اورتعلیم آپ کے لیے دنیا وآخرت میں مفید ثابت ہو۔ جب آپ بڑی ہو جا ئیں، شادی شدہ ہوں، اس وقت شوہر کی اجازت کے ساتھ کسی بزرگ سے اصلاحی تعلق قائم کرسکتی ہیں۔ فی الحال آپ درج ذیل چیزوں کا اہتمام کریں:
1…نماز اول وقت میں ادا کر لیا کریں۔ نماز میں کوتاہی نہ ہو۔
2…قرآن مجید کی تلاوت ضرور کیا کریں۔ بہتر ہے کہ روزانہ ایک پارہ ہو۔
3…مناجاتِ مقبول عربی یا اردو کی دعائیں ایک منزل روزانہ ضرور پڑھا کریں۔
4…دنیا کے ہنر مثلا کھانا پکانا، سلائی کڑھائی وغیرہ جو آپ کی اگلی زندگی میں کام آئیں ضرور سیکھ لیں ورنہ عورت کو تکلیف ہوتی ہے۔
5…اپنا کام اور اپنے گھر کے کام خود کرنے کی کوشش کریں کسی کی محتاج نہ بنیں۔
6…والدین اور قریب ترین محارم کو راحت پہنچانے کی کوشش کریں۔ کسی کے لیے اذیت یا تکلیف کا باعث نہ بنیں۔ اس کا بہت گناہ ہے، اور بڑی نحوست کی بات ہے۔
*7…شکر کا اور دُعا کا بہت اہتمام رکھیں۔ جو نعمت نظر آ جائے، اس پرفورا شکر ادا کریں اور جو کچھ مانگنا ہو اللہ تعالیٰ سے مانگتے رہیں۔ ہاتھ اٹھا کر بھی اور چلتے پھرتے بھی…والسلام
دعا گو محموداشرف عثمانی غفر اللہ لہٗ
۲۱/ جمادی الثانیہ ۱۴۳۵ھ
کتاب کا نام: احباب کے لیے مضامینِ تصوف (67 تا 70)
مصنف: مفتی محمود اشرف عثمانی صاحب مدظلہم
ناشر: ادارہ اسلامیات کراچی-لاہور
