পর্দার গুরুত্ব ও বিধান

পর্দার গুরুত্ব ও বিধান post thumbnail image

📕 পর্দা সম্পর্কে বয়ান 📕

مَنۡ عَمِلَ سَيِّئَةٗ فَلَا يُجۡزَىٰٓ إِلَّا مِثۡلَهَاۖ وَمَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ يُرۡزَقُونَ فِيهَا بِغَيۡرِ حِسَابٖ ٤٠ ﴾ [غافر: ٤٠]
কেউ পাপ কাজ করলে তাকে শুধু পাপের সমান প্রতিদান দেওয়া হবে, আর যে পুরুষ অথবা নারী মুমিন হয়ে সৎকাজ করবে, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে অগণিত রিজিক দেওয়া হবে। [সূরা গাফের, আয়াত: ৪০]

مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِي النَّاسِ فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ
“আমার পর আমি পুরুষের জন্য নারীর ফেতনার চেয়ে অধিক ক্ষতিকারক কোনো ফিতনা রেখে যাইনি” [বুখারী, ৫০৯৬ ]

🔲 মহিলাদের রাস্তায় গমণ 🔲

وَقَرۡنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ ٱلۡأُولَىٰۖ [الاحزاب : ٣٣]
“(হে নারী জাতি!) তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর এবং প্রাক-ইসলামী (জাহেলিয়াতী) যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না।”। [আহযাব ৩৩]

«المَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
মহিলা হচ্ছে পর্দার বস্তু। সে যখন ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে পুরুষের নিকট শোভনীয়/আকর্ষণীয় করে তোলে। [তিরমিযি১১৩৭]

وَالمَرْأَةُ إِذَا اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ بِالمَجْلِسِ فَهِيَ كَذَا وَكَذَا» يَعْنِي زَانِيَةً
আর নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক বেশ্যা।”
[সহীহ আল-জামে আস-সগীর ২৭০]

صِنْفَانِ مِنْ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا… وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا»
আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল, সে নারীর দল যারা কাপড়তো পরিধান করবে কিন্তু তারা উলঙ্গ, নিজেরা অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট এবং অন্যদেরকেও তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে, যাদের মস্তক [খোপা বাধার কারণে] উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে”। [মুসলিম: ২১২৮]

لَعَنَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَلَعَنَ الْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ»
রাসুলুল্লাহ সাঃ অভিশাপ দিয়েছেন ঐ সমস্ত পুরুষদের যারা নারীদের বেশভূষা ধারণ করে এবং ঐ সমস্ত নারীদের যারা পুরুষদের বেশভূষা ধারণ করে। [ইবনু মাজাহ, ১৯০৪]

وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ ۖ وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِأَرۡجُلِهِنَّ لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِينَ مِن زِينَتِهِنَّۚ﴾ [النور : ٣١]
“তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না, তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। [নুর ৩১]

لَيْسَ لِلنِّسَاءِ وَسطَ الطَّرِيْقِ )
যেমন পথে চলার সময় পথের মাঝে চলা নারীর জন্য বৈধ নয়। [সহীহ ইবন হিব্বান, ৫৬০১, সহিহা ৮৫৬]

عَلَيْكُنَّ بِحَافَّاتِ الطَّرِيقِ
তোমাদের নারীদের উচিত রাস্তার সাইট দিয়ে চলা।
[আবু দাউদ ৫২৭২]

لاَ تُسَافِرِ المَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ، وَلاَ يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ
“কোন মহিলা যেন এগানা পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে, তার নিকট যেন এগানা ছাড়া কোনো বেগানা পরুষ প্রবেশ না করে। [বুখারি হাদিস ১৮৬২]

🔲 চোখের পর্দা 🔲

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ
দুই চোখের ব্যভিচার হল, দৃষ্টি দিয়ে দেখা। [মুসলিম, ২৬৫৭]

★বাড়ির বাহিরে দৃষ্টির পর্দা

قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠ وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ ٣١ ﴾ [النور : ٣٠، ٣١]
“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে (নজর ঝুকিয়ে চলে) এবং তাদের যৌনাঙ্গকে হেফাযতে রাখে; এটিই তাদের জন্য উত্তম। ওরা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারাও যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করে। [সূরা নূর, আয়াত: ৩১]

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

لَا تُتْبِعِ النَّظَرَ النَّظَرَ، فَإِنَّ الْأُولَى لَكَ وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ ”
“(কোন নারীর উপর তোমার দৃষ্টি পড়লে তার প্রতি) বারবার দৃকপাত করো না। বরং নজর সত্বর ফিরিয়ে নিও, কারণ, তোমার জন্য প্রথমবার ক্ষমা, দ্বিতীয়বার নয়”। [আহমদ- ১৩৬৯]

★বাড়ির ভিতরে দৃষ্টির পর্দা

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَدۡخُلُوۡا بُیُوۡتًا غَیۡرَ بُیُوۡتِکُمۡ حَتّٰی تَسۡتَاۡنِسُوۡا وَ تُسَلِّمُوۡا عَلٰۤی اَہۡلِہَا ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ﴿۲۷﴾
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। [সুরা: নূর-২৭]

“‏ الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ فَإِنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ ‏
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছ যে, ‘অনুমতি গ্রহণ’ তিনবার, এতে যদি তোমাকে অনুমতি দেয়া হয়, ‘ভাল’, নতুবা তুমি প্রত্যাবর্তন কর।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৫২১]

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ اطَّلَعَ رَجُلٌ مِنْ جُحْرٍ فِي حُجَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِدْرًى يَحُكُّ بِهِ رَأْسَهُ فَقَالَ ‏ “‏ لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ تَنْظُرُ لَطَعَنْتُ بِهِ فِي عَيْنِكَ، إِنَّمَا جُعِلَ الاِسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ ‏”‏‏.‏
সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেনঃ একবার এক লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কোন এক হুজরায় উঁকি দিয়ে তাকালো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে একটা ‘মিদরা’ ছিল, যা দিয়ে তিনি তাঁর মাথা চুলকাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ যদি আমি জানতাম যে , তুমি উঁকি দিবে, তবে এ দিয়ে তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম। তাকানোর জন্য অনুমতি গ্রহনের বিধান দেয়া হয়েছে। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬২৪১]

★ ৩ সময়ে অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করতে হবে

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِیَسۡتَاۡذِنۡکُمُ الَّذِیۡنَ مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ وَ الَّذِیۡنَ لَمۡ یَبۡلُغُوا الۡحُلُمَ مِنۡکُمۡ ثَلٰثَ مَرّٰتٍ ؕ مِنۡ قَبۡلِ صَلٰوۃِ الۡفَجۡرِ وَ حِیۡنَ تَضَعُوۡنَ ثِیَابَکُمۡ مِّنَ الظَّہِیۡرَۃِ وَ مِنۡۢ بَعۡدِ صَلٰوۃِ الۡعِشَآءِ ۟ؕ ثَلٰثُ عَوۡرٰتٍ لَّکُمۡ ؕ لَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ وَ لَا عَلَیۡہِمۡ جُنَاحٌۢ بَعۡدَہُنَّ ؕ طَوّٰفُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ بَعۡضُکُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمُ الۡاٰیٰتِ ؕ وَ اللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ﴿۵۸﴾
হে মুমিনগণ, তোমাদের ডানহাত যার মালিক হয়েছে এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন অবশ্যই তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের সালাতের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ, এবং ‘ইশার সালাতের পর; এই তিনটি তোমাদের [গোপনীয়তার] সময়। এই তিন সময়ের পর তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অন্যের কাছে যাতায়াত করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। [ সুরা: নূর ৫৮]

★ মহিলাদের ঘরে গমণ করা

لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ،
“কোন পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে গোপনে অবস্থান না করে। কারণ, শয়তান উভয়ের কুটনি হয়
[তিরমিযি, হাদিস: ১১৭১]

إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَفَرَأَيْتَ الحَمْوَ، قَالَ: الحَمْوُ الْمَوْتُ.
“তোমরা নারীদের কাছে প্রবেশ করা হতে বিরত থাক। এ কথা বলার পর একজন আনসারী ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল দেবরের বিষয়ে আপনি কি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেন, দেবর হল মৃত্যু সমতুল্য। [বুখারি, ৫২৩২]

لَا تَلِجُوا عَلَى المُغِيبَاتِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ»
“তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্ত শিরায় প্রবাহিত হয়। [তিরমিযি, হাদিস: ১১৭২]

🔲 হাতের পর্দা 🔲

وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ
হাতের ব্যভিচার হল, স্পর্শ করা [ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭]

আম্মাজান আয়েশা রা. বলেন,

مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ صَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ امْرَأَةٍ إِلاَّ امْرَأَةً يَمْلِكُهَا .
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো স্ত্রী ছাড়া আর কোনো মহিলার হাত স্পর্শ করেন নি।

বেগানা নারীর সাথে মুসাফাহা বৈধ নয়। হাতে মোজা, দস্তানা বা কাপড়ের কভার রেখেও নয়। কোনো গম্য নারীর দেহ স্পর্শ, বাসে-ট্রেনে, হাটে-বাজারে, স্কুলে-কলেজে প্রভৃতি ক্ষেত্রে গায়ে গা লাগিয়ে চলা বা বসাও হারাম।

لَأنْ يُطعَنَ في رأسِ رجلٍ بِمِخْيَطٍ من حديدٍ خيرٌ من أن يمَسَّ امرأةً لا تَحِلُّ له
“কোন ব্যক্তির মাথায় লৌহ সুচ দ্বারা খোঁচা যাওয়া ভালো, তবুও যে নারী তার জন্য অবৈধ তাকে স্পর্শ করা ভালো নয়”।[ আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ, আলবানী: ২২৬]

★ যেসব স্পর্শে বিবাহ স্থায়ীভাবে ভঙ্গ হয়ে যায়

১। মা-ছেলের উত্তেজনাসহ স্পর্শ।
২। বাবা-মেয়ের উত্তেজনাসহ স্পর্শ।
৩। শাশুড়ী-মেয়ের জামাইয়ের উত্তেজনাসহ স্পর্শ।
৪। শশুর-ছেলের বউ উত্তেজনাসহ স্পর্শ।

বিশেষ করে আমাদের দেশে ছেলের বউকে দিয়ে শশুরের হাত পা টিপানো হয়। শশুরের হাত-পা মাথা তেল দিয়ে মালিশ করে দিতে হয়। যদি হাত পা টিপানোর সময় শশুরের উত্তেজনা হয় কিংবা বউমার যৌন উত্তেজনা হয় তাহলে তার ছেলের জন্য স্ত্রী স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়। এজন্য উচিত শাশুড়ী তার শশুরের হাত পা টিপে দিবে ও তেল মালিশ করে দিবে কিংবা তার ছেলেরা মালিশ করে দিবে। নিজ স্ত্রীকে দিয়ে নয়।

এমনিভাবে উপরোক্ত যে চারটি সুরতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলোর ক্ষেত্রেই উত্তেজনার সহিত স্পর্শ হলে
প্রথম সুরতে ছেলের মায়ের জন্য তার পিতা স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়।
দ্বিতীয় সুরতে মেয়ের মা তার বাবার জন্য স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়।
তৃতীয় সুরতে জামাইয়ের জন্য শাশুড়ির মেয়ে অর্থাৎ নিজের বউ স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যায়।

বি:দ্র: উপরোক্ত মাসয়ালা গুলো হুরমতে মুসাহারাহ সংক্রান্ত ফতোয়া সমূহের আংশিক মোটা দাগের আলোচনা।

🔲 কন্ঠের পর্দা 🔲

يَٰنِسَآءَ ٱلنَّبِيِّ لَسۡتُنَّ كَأَحَدٖ مِّنَ ٱلنِّسَآءِ إِنِ ٱتَّقَيۡتُنَّۚ فَلَا تَخۡضَعۡنَ بِٱلۡقَوۡلِ فَيَطۡمَعَ ٱلَّذِي فِي قَلۡبِهِۦ مَرَض ٣٢ ﴾ [الاحزاب : ٣٢]
“হে নবী স্ত্রীগণ তোমরা অন্যান্য নারীদের মত নয়, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষদের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের মানুষ প্রলুব্ধ হয়।” [সূরা আল-আহযাব: ৩২]

এই জন্যই ইমাম ভুল করলে পুরুষ মুক্তাদীরা তসবিহ বলে স্মরণ করাবে, আর মহিলারা হাত তালির শব্দে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ، وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ»
পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য তালি।
[বুখারি, হাদিস: ১২০৩]

ইমাম সারাখসী রাহি. বলেন;
ﻓﻲ ﺻﻮﺗﻬﺎ ﻓﺘﻨﺔ
মহিলার আওয়াজে ফিতনা আছে।
[আল মাবসূত ১/৩৮]

ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম রাহিঃ বলেন বলেন,

” وأما سماعه – يعني الغناء عموما – من المرأة الأجنبية فمن أعظم المحرمات ، وأشدها فسادا للدين ”
অর্থাৎ আজনবী মহিলার গান- গজল শ্রবণ করা সর্বাপেক্ষা হারাম কাজ এবং দ্বীনের সবচেয়ে দূষিত বিষয়৷
( ইগাসাতুল লুহফান- ১/২৩০)

শাইখ ইবনে উছাইমিন রাহি. বলেনঃ

رأيي أن هذا حرام : أن تظهر أصوات النساء عند الرجال الذي يجلسون يستمعون إليهن ويتلذذون بأصواتهن ” انتهى .
অর্থাৎ আমার মতামত হলো এটা হারাম যে, উপবিষ্ট পুরুষদের সম্মুখে মহিলাদের আওয়াজ উচু হবে এবং তারা তাদের আওয়াজ শ্রবণ করে স্বাদ উপভোগ করবে৷
( আল লিকাউস সাহরী, ফতোয়া নং- ১৪ ও ৫৫)

🔲 কানের পর্দা 🔲

وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ
দুই কানের ব্যভিচার হল শ্রবণ। [ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭]

মেয়েদের কন্ঠ শোনে উপভোগ করা কিংবা হারাম জিনিস শোনে উপভোগ করা হচ্ছে কানের পর্দা নষ্ট করা।

🔲 জবানের পর্দা 🔲

وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ
মুখের ব্যাভিচার হল, কথা বলা।[ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭]

মেয়েদের সাথে ফোনে কথা বল, অশ্লীল কিংবা হারাম কর্মকান্ড মুখ দিয়ে করা হচ্ছে মুখের পর্দা নষ্ট করা।

🔲 পায়ের পর্দা 🔲

وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا
পায়ের ব্যভিচার হল, পায়ে হেটে (গানাহের কাজে) যাওয়া।
[মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭]

🔲 কলবের পর্দা 🔲

وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى
আর অন্তর আশা ও আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে।
[মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭]

কলবকে হারাম চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে মনের পর্দা।

এই বিষয়ে সম্পূর্ণ হাদিসটি নিম্নরূপ

كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا، مُدْرِكٌ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ»
“আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের কিছু অংশ লিপিবদ্ধ হয়েছে সে অবশ্যই তার মধ্যে লিপ্ত হবে। দুই চোখের ব্যভিচার হল, দৃষ্টি, দুই কানের ব্যভিচার হল শ্রবণ, মুখের ব্যাভিচার হল, কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হল, স্পর্শ করা এবং পায়ের ব্যভিচার হল, অগ্রসর হওয়া। আর অন্তর আশা ও আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে। লজ্জা স্থান তাকে বাস্তবায়ন করে অথবা মিথ্যায় পরিণত করে”।[ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭]

✍️ Mufti Jubayer Ahmad

Leave a Reply

Related Post

দুয়ার পরও যদি গুনাহ হয়ে যায়দুয়ার পরও যদি গুনাহ হয়ে যায়

*◼️দুআর পরে যদি গুনাহ হয়ে যায়* হযরত শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লহ বলেন, আমাদের হযরত ডাক্তার সাহেব (রহ.) বলেন যে, যখন তোমরা এই দুআ করলে, হে আল্লাহ, আমাকে

রুহানিয়াতের দৈন্যরুহানিয়াতের দৈন্য

📌 বর্তমান সময়ের দ্বীনদারদের সবচেয়ে বড় সমস্যা: “রুহানিয়াতের দৈন্য” ❝قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا ﴿٩﴾ وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا﴿١٠﴾❞ “যে নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে সে সফলকাম হয়েছে। আর যে আত্মাকে কলুষিত

অপবাদ ও সন্দেহ থেকে বাঁচা ফরজঅপবাদ ও সন্দেহ থেকে বাঁচা ফরজ

🕌 অপবাদ থেকে বেঁচে থাকাই ইসলামের নির্দেশ 🔰 অপবাদ ও সন্দেহ থেকে বাঁচা ফরজ ইসলাম কেবল গোনাহ থেকে বাঁচতে বলেনি, বরং এমন কাজ থেকেও বিরত থাকতে বলেছে যেগুলোর মাধ্যমে মানুষ