*”প্রত্যেক কাজে বিসমিল্লাহ বলার রহস্য”*
ইসলাম প্রত্যেক কাজে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করার নির্দেশ দিয়ে মানুষের গোটা জীবনের গতিই অন্য সকল কিছুর দিক থেকে সরিয়ে নিয়ে একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
বারবার আল্লাহর নামে কাজ শুরু করার মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তেই আনুগত্যের এ স্বীকারোক্তি নবায়ন করে যে,
*আমার অস্তিত্ব ও আমার যাবতীয় কাজকর্ম আল্লাহর ইচ্ছা সাহায্য ছাড়া হতে পারে না। এ নিয়তে তার ওঠাবসা, চলাফেরা সহ জীবনের সকল কাজকর্ম ইবাদতে পরিণত হয়ে যায়।*
কাজটা কতই না সহজ!
এতে সময়ের অপচয় হয় না, পরিশ্রমও হয় না, উপকারিতা সুদূরপ্রসারী ।
এতে দুনিয়াদারীর প্রতিটি কাজ দ্বীনের কাজে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
মুসলমান ও অমুসলমান নির্বিশেষে সকলেই পানাহার করে, কিন্তু মুসলমান আহার গ্রহণের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলে এই স্বীকারোক্তি জানাই যে, আহার্যবস্তু জমিনের উৎপন্ন হওয়া থেকে শুরু করে পরিপক্ক হওয়া তাতে কত পরিশ্রমী না নিয়োজিত হয়েছে! আকাশ-বাতাস,গ্রহ-নক্ষত্রের কত অবদানেই না এক একটি শস্যদানার দেহ পুষ্টি লাভ করেছে!
মানুষ, প্রকৃতি এবং উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত অন্য জীব-জানোয়ারের যে অবদান খাদ্যের প্রতিটি কণায় বিদ্যমান,তা আমার চেষ্টা কর্ম দ্বারা সম্ভবপর ছিল না।
একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই অনুগ্রহ ককরে এগুলোকে বিবর্তনের ফল অতিক্রম করিয়ে উপাদেয় আহার্য রূপে আমাকে দান করেছেন।
মুসলমান ও অমুসলমান সকলেই শোয়, ঘুমায়, আবার জেগে ওঠে। কিন্তু মু’মিন তার শোয়ার এবং জেগে ওঠার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে তার যোগাযোগের সম্পর্ক নবায়ন করে।
*ফলে তার জাগতিক কাজকর্ম আল্লাহর জিকিরের রূপান্তরিত হয়ে বন্দেগী রূপে লিখিত হয়।*
একজন মু’মিন কোনো যানবাহনে আরোহণ কালে আল্লাহর নাম স্মরণ করে এই কথাটির সাক্ষ্য দেয় যে, এ যানবাহনের সৃষ্টি এবং আর ব্যবহারে এনে দেওয়া ছিল মানবীয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে।
এক মাত্র আল্লাহ তা’আলাই সুষ্ঠু এক পরিচালনা পদ্ধতির বদৌলতে কোথাকার কাঠ, কোথাকার লোহা, কোথাকার কারিগর, কোথাকার চালক সবকিছু সমবেত করে সবগুলোকে মিলিয়ে আমার খেদমতে নিয়োজিত করেছেন। সামান্য কয়টি পয়সা ব্যয় করে আল্লাহর এত বড় সৃষ্টি আমার নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারছি এবং আমি নিজে কোন জায়গা হতে সঙ্গে নিয়ে আসিনি;বরং সংগ্রহ করার সকল ব্যবস্থা ও দিয়েছেন।
চিন্তা করুন,
ইসলামের এই সামান্য শিক্ষা কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে দিয়েছে।
এজন্য এ এরূপ বলা যথার্থ যে,
*বিসমিল্লাহ এমন এক পরশপাথর যা শুধু তোমাকে নয়, মাটিকেও স্বর্ণে পরিণত করে।*
~ তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন, প্রথম খণ্ড থেকে।
