ভেঙে না পড়ে উঠে দাঁড়াতে হবে

ভেঙে না পড়ে উঠে দাঁড়াতে হবে post thumbnail image

বন্ধু কখনো আক্ষরিক অর্থে দুঃখের ভাগিদার হতে পারে না। হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থামিয়ে দেবার ক্ষমতা ভালোবাসার মানুষটিরও নেই। নির্ঘুম রাতগুলো কেউ কারো হয়ে জেগে থাকে না। নিজেকে নিজেরই দেখে রাখতে হয়। সামলে রাখতে হয়। জীবনের ঘটনাগুলো যতখানি গুরুত্ব পাবার দাবি রাখে, ততটাই দেওয়া চাই, না বেশি, না কম।

এটুকু জেনে রেখো, যদি তুমি ভেঙে পড়ো উঠে দাঁড়াতে হবে তোমাকেই—তোমাকে টেনে তোলার কেউ নেই। যদি তুমি হেরে যাও, তোমাকে জেতাতে পারে শুধুই তোমার জিদ। হোঁচট খেয়ে উঠে দাঁড়ানো, আবার চলতে শেখা—তোমারই কাজ। নিজের কদর লোকের চোখে খুঁজতে যেয়ো না; তুমি নিজেই জানবে তোমার মর্যাদা আসলে কতখানি। তুমি ওপরে উঠবে তখনই, যখন তুমি বিবেকের সাথে সৎ হতে পারবে। আর নিজেকে যদি সত্যিই চিনে থাকো, তবে কে কী বলল তাতে কিছু যায়-আসে না।

জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তার বোঝা বয়ে বেড়িয়ো না, সে বোঝা আল্লাহই নিয়ে নিয়েছেন। আয়-রোজগার নিয়ে ভেবো না, সেটাও আল্লাহ আগে থেকেই লিখে রেখেছেন। ভবিষ্যতের জন্যেও উদ্বিগ্ন হোয়ো না, ওটাও আল্লাহ তাআলা নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তোমার চিন্তা করা বা না করাতে কিছুই বদলাবে না। একটা চিন্তাই মাথায় গেঁথে নাও: কীভাবে আল্লাহকে খুশি করা যায়। যদি তুমি তাকে খুশি করতে পারো, তিনি তোমাকে খুশি রাখবেন, তোমার ইচ্ছা পূরণ করবেন, তোমাকে দেবেন প্রয়োজনের চাইতেও অধিক। যে জীবন তোমায় কাঁদিয়েছে, তার জন্য কেঁদো না, শুধু বলো, হে আমার রব, আমাকে এই জীবন ও আখিরাতের জীবনে উত্তম বিনিময় দান করো।

বান্দা যখন রবের কাছে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, সেই একটি সিজদাহ এক পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ বেদনাকে বিদায় জানায়। আনন্দ ফিরে আসে অন্তর-চিঁড়ে-বেরোনো একটি দুআয়। আল্লাহ তোমার কাজের কথা ভোলেন না। তিনি সে অন্তরের কথা জানেন, যার ব্যথা তুমি দূর করেছ; সে চোখের কথাও জানেন, যে চোখ কাঁদতে গিয়ে তোমার কথায় হেসে উঠেছে।

জীবনে চলার পথে একটি কথাই মাথায় রেখো—ভালো কাজ করে যাও, কারও কাছে বিনিময়ের আশা রেখো না। কারণ, তুমি কোনো মানুষের জন্য ভালো কাজ করছ না, তুমি ভালো কাজ করছ আল্লাহর জন্য। কেননা আল্লাহ ভালো কাজকারীদের ভালোবাসেন …

—ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ

© আকাবির কথন

Leave a Reply

Related Post

ইসলামে একাধিক বিয়ে: দায়িত্ব, বাস্তবতাইসলামে একাধিক বিয়ে: দায়িত্ব, বাস্তবতা

ইসলামে একাধিক বিয়ে: দায়িত্ব, বাস্তবতা বিয়ে (নিকাহ) ইসলাম ধর্মে শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের মাধ্যম নয়; বরং এটি একটি গুরু দায়িত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে পরিবার, বংশ, সমাজ এবং উম্মাহ গড়ে ওঠে।

সন্তান তারবিয়াতের জন্য করণীয় পদক্ষেপসন্তান তারবিয়াতের জন্য করণীয় পদক্ষেপ

সন্তান তারবিয়াতের জন্য করণীয় পদক্ষেপ এক দ্বীনি ভাইয়ের প্রশ্ন: সন্তানের তারবিয়াতের জন্য কেমন মেয়ে বিয়ে করা উচিত, যে স্বামীর কথার উপর প্রাধান্য দিয়ে নিজের বেদ্বীনী মতামতকে চাপিয়ে দিতে পারে, এরকম

ইসলামে নারীদেরকে “হাউজ ওয়াইফ” বলা হয়নি।ইসলামে নারীদেরকে “হাউজ ওয়াইফ” বলা হয়নি।

ইসলামে নারীদেরকে “হাউজ ওয়াইফ” বলা হয়নি। ইসলামে নারীদেরকে বলা হয়েছে — **”رَبَّةُ البَيت” (রাব্বাতুল বাইত)** অর্থাৎ — **“গৃহের রাণী” বা “গৃহের সম্রাজ্ঞী”**। তাই নিজের মা, বোন, মেয়ে, স্ত্রী-কে “Housewife” লিখবেন