পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয়

পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয় post thumbnail image

 


পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয়: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

ভূমিকা

পরিবার সমাজের মৌলিক একক। সমাজের কাঠামো মজবুত হয় পরিবার সুদৃঢ় হলে, আর পরিবার সুসংগঠিত হয় নারীর মাধ্যমে।

একজন নারী একাধারে মেয়ে, বোন, স্ত্রী এবং মা হিসেবে পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইসলাম নারীদের প্রতি যেমন সম্মানজনক মর্যাদা দিয়েছে, তেমনি তাঁদের প্রতি কিছু দায়িত্বও অর্পণ করেছে।

এই প্রবন্ধে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারের প্রতি মেয়েদের দায়িত্ব ও করণীয় দলীলসহ তুলে ধরা হলো।


১. মা হিসেবে নারীর করণীয়

মায়ের কোলে শিশু শেখে প্রথম পাঠ। ইসলামে মাতৃত্বের মর্যাদা খুবই উচ্চ।

কুরআন শরীফে আল্লাহ বলেন:

“তোমার প্রতি আমি আদেশ করেছি, মায়ের প্রতি সদয় ব্যবহার কর। তার কষ্টের পর কষ্টে সে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে।”
— [সুরা লোকমান: ১৪]

রাসূল (সা.) বলেন:

“তোমার সবচেয়ে বেশি হকদার কে? মা… তারপর মা… তারপর মা… তারপর বাবা।”
— (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

মূল করণীয়:

  • সন্তানদের আকীদা, ঈমান ও ইসলামী শিক্ষা দেওয়া
  • আদব-কায়দা শেখানো
  • চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা
  • দোয়ার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের জন্য সহায়তা করা

২. স্ত্রী হিসেবে করণীয়

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানভিত্তিক।

আল্লাহ বলেন:

“তোমাদের মধ্যে একে অপরের জন্য তোমরা পোশাক স্বরূপ।”
— [সুরা বাকারা: ১৮৭]

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“যে স্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, স্বামীর আনুগত্য করে, এবং তার সতীত্ব রক্ষা করে—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
— (মুসনাদ আহমদ)

মূল করণীয়:

  • স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য
  • সংসার পরিচালনায় মমতা ও সহযোগিতা
  • স্বামীর সম্পদ, সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা
  • সন্তানদের সহিত সম্মিলিতভাবে দ্বীনী পরিবেশ তৈরি

৩. মেয়ে ও বোন হিসেবে করণীয়

মেয়ে ও বোন হিসেবে একজন নারীর ভূমিকা হলো মায়া-মমতা ও আদর্শ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের বন্ধনকে শক্তিশালী করা।

হাদীস:

“যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানদের লালন-পালন করে, তাদের প্রতি সদাচরণ করে, সে জান্নাত পাবে।”
— (তিরমিযী, আবু দাউদ)

মূল করণীয়:

  • মা-বাবার আনুগত্য
  • ভাই-বোনদের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা
  • পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা

৪. পারিবারিক শান্তি ও সংহতির জন্য মেয়েদের ভূমিকা

নারী পারিবারিক পরিবেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাঁর মধুর ব্যবহার, ধৈর্য, এবং দয়ালু মনোভাব পরিবারে সুখ এনে দেয়।

কুরআন বলে:

“আর সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখো; আর ধৈর্যধারণ করো।”
— [সুরা লুকমান: ১৭]

মূল করণীয়:

  • ঝগড়া ও বিরোধ এড়িয়ে চলা
  • সমস্যা সমাধানে ধৈর্য ও সহানুভূতির পরিচয়
  • পরিবারের সকল সদস্যকে ইসলামের পথে উৎসাহিত করা

উপসংহার

পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয় শুধু দায়িত্ব নয়, বরং এক মহান ইবাদত। একাধারে মা, স্ত্রী, মেয়ে ও বোন হিসেবে তারা পরিবারের দীন ও দুনিয়া উভয় দিকেই প্রভাব বিস্তার করেন।

ইসলাম নারীদের এই মর্যাদা ও দায়িত্ব দিয়েছে কেবল তাদের সম্মানিত করতেই, তাদের হেয় করার জন্য নয়।

যদি মুসলিম নারীরা এই দায়িত্বসমূহ আন্তরিকতা ও ইসলামী আদর্শে পালন করেন, তাহলে পরিবার হবে জান্নাতের প্রতিচ্ছবি।


তথ্যসূত্র:

  1. আল-কুরআন (সুরা লুকমান, বাকারা)
  2. সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
  3. মুসনাদ আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী
  4. ইমাম গাজ্জালী, ইহ্‌ইয়াউ উলুমুদ্দীন
  5. আল-মাওসূ‘আতুল ফিকহিয়্যাহ (কুয়েত)

আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন আমীন।

Leave a Reply

Related Post

নারীদের পথচলার কিছু আদবনারীদের পথচলার কিছু আদব

নারীদের পথচলার কিছু আদব ১. হাঁটার সময় বিনয় ও লজ্জাশীলতা প্রদর্শন করা আল্লাহ তাআলা বলেন: فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ অর্থ: “অতঃপর তাদের একজন লজ্জাশীলভাবে হেঁটে তার কাছে এল।” এই

আপনার কন্যাদের এই বিষয়গুলো শেখানআপনার কন্যাদের এই বিষয়গুলো শেখান

আপনার কন্যাদের এই বিষয়গুলো শেখান যখন মাটিতে পড়ে থাকা কোনো কিছু তুলতে যাবেন, তখন নিজের বুকে হাত রেখে তুলুন—নিজেকে আড়াল ও পর্দায় রাখার জন্য। পুরুষদের সামনে কখনোই এক পা আরেক

অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন ও করণীয়অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন ও করণীয়

অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন‌ প্রশ্ন ও বিষয় সম্পর্কে হযরত মুফতী শফী (রহ.)-এর কর্মপন্থা — হযরত শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকি উসমানী দা.বা.-এর বর্ণনায়: হযরত আব্বাজান মুফতী শফী সাহেব (রহ.)-এর বিশেষ অভ্যাস ছিল