অনলাইন সেলেব্রেটির ধোঁকা থেকে বাঁচুন

অনলাইন সেলেব্রেটির ধোঁকা থেকে বাঁচুন post thumbnail image

দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার জন্য প্রয়োজন হয় ইলম, আর এই ইলম একদিনে অর্জিত হয় না।
দ্বীন মানে শুধু আবেগ নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যার ভিত মজবুত করতে হয় জ্ঞান, আমল ও ধৈর্যের মাধ্যমে। কেবল কয়েকটি ওয়াজ শুনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ইসলামী পোস্ট দেখে কারো দ্বীনি জীবন পরিপূর্ণ হয় না।

এটা সত্য যে, এই যুগে অনেকেই অনলাইন বক্তা, ইসলামি সেলিব্রিটি, বা জনপ্রিয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হন। তাঁদের মাধ্যমে কেউ কেউ তাওবা করেন, পর্দাশীলতা গ্রহণ করেন, নামাজে অভ্যস্ত হন—এগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং আনন্দের বিষয়।

কিন্তু—প্রশ্ন হলো, এখান থেকেই কি দ্বীনের সফর শেষ হয়ে যায়?

না, বরং এখান থেকেই প্রকৃত সফরের শুরু। এই সময়টিই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। কারণ, এ সময় একজন ব্যক্তি আবেগে থাকে, কিন্তু ভিত থাকে দুর্বল। আর এই দুর্বল ভিতর ওপরেই আসে পরীক্ষা—সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর আলোচনা, দ্বীনি ব্যক্তিত্বদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, এক্সপোজ কেলেঙ্কারি, ভুল ব্যাখ্যা, কিংবা মনগড়া মতবাদ ইত্যাদি।

ফলে দেখা যায়, দ্বীনের পথে সদ্য ফিরে আসা অনেক ভাই-বোন এসব দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। দ্বীনের সৌন্দর্য ও স্বচ্ছতা হারিয়ে যেতে থাকে তাঁদের চোখে। কখনো কখনো কেউ দ্বীনকেই ভুলভাবে বুঝে ফেলে। কেউ আবার আবার সেই আগের জীবনে ফিরে যায়—নাউযুবিল্লাহ।

এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী?

যারা অনলাইনের মাধ্যমে বা সেলিব্রিটির দাওয়াতের মাধ্যমে দ্বীনের পথে এসেছেন, তাঁদের উচিত প্রথমেই অনলাইন নির্ভরতা কমিয়ে দেওয়া। কারণ অনলাইন মাধ্যম উপকারের সঙ্গে সঙ্গে বিভ্রান্তির বড় উৎসও হতে পারে।

বরং তাঁরা যেন দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগ দেন। নিকটস্থ মসজিদ, আলেম বা ইসলামী প্রতিষ্ঠান থেকে পরামর্শ নিন। কুরআন, হাদীস, আকীদা, ফিকহ—এই বিষয়গুলোর প্রাথমিক জ্ঞান নেওয়ার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে দ্বীনের ভিত গড়ে তুলুন। প্রশ্ন করুন, বুঝে নিন, পড়ুন ও শিখুন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন:
“الناس إلى العلم أحوج منهم إلى الطعام والشراب، لأن الرجل يحتاج إلى الطعام والشراب في اليوم مرة أو مرتين، وحاجته إلى العلم بعدد أنفاسه.”
“মানুষের জ্ঞানের প্রয়োজন খাবার-পানির চেয়েও বেশি। কারণ, একজন মানুষ দিনে এক-দুইবার খাবার-পানির প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু প্রতিটি নিঃশ্বাসে তার জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।”

অতএব, যাদের ভেতরে দ্বীনের আলো জেগেছে, তাঁরা যেন এটিকে রক্ষা করার জন্য ধৈর্য, সচেতনতা ও সঠিক পরিবেশ বেছে নেন। শুধু জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বা আবেগী বক্তব্য নয়—বরং সঠিক জ্ঞানে সুদৃঢ় হোন।

এইভাবে ধাপে ধাপে আত্মা জেগে উঠবে, দ্বীনের নূর স্থায়ী হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ সহজ হবে, ইনশাআল্লাহ!

 

Leave a Reply

Related Post

আগে নিজেকে ঠিক করো, পরে বিশ্বকে!আগে নিজেকে ঠিক করো, পরে বিশ্বকে!

🌿 আগে নিজেকে ঠিক করো, পরে বিশ্বকে! সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি একজন মানুষের হৃদয় থেকে শান্তি কেড়ে নেয়, তা হলো—এই ভুল ধারণা যে তার ওপর দায়িত্ব পড়েছে গোটা পৃথিবীকে সংশোধন

ভালো মায়ের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকেভালো মায়ের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে

কথায় আছে মা ভালো হলে সন্তানও ভালো হয়৷ কথাটা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। একজন ভালো মায়ের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে আসুন জেনে নিই। • ১. একজন ভালো মা সন্তানের সামনে কখনো

চরম বিপদের আমলচরম বিপদের আমল

আপনি চরম বিপদে? জুলুমে নিস্পেষিত? পাহাড়সম ঋনে জর্জরিত? মামলা-মোকদ্দমায় নাজেহাল? সমস্যা পিছু ছাড়ছেনা? বিশ্ববিখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার-রুহানি চিকিৎসক- বরেন্য বুজুর্গ হযরত মাওলানা হাকীম আখতার সাহেব (রহঃ) বলেন- এসব সমস্যা উত্তরণে আমার