আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর বান্দার সঙ্গে
“ওয়ান-টু-ওয়ান”
থাকা খুব পছন্দ করেন।
এমনকি এতটাই পছন্দ করেন যে,
তিনি ধীরে ধীরে বান্দাকে তাঁর অস্তিত্ব সরাসরি অনুভব করিয়ে দেন।
আর এই ব্যাপারটা তিনি মোটেও পছন্দ করেন না যে,
এমন বান্দা যদি
“গোপন কথাবার্তা”
অন্যদের সাথে শেয়ার করে।
যখন কেউ এমন করে, তখন
এর স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া তাঁর একান্ত অবস্থায় এভাবে আসে যে,
সে বসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সঙ্গে গোপন আলাপ করছে,
কিন্তু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, আজ সে একা—
যে অদেখা সত্তার সান্নিধ্য সরাসরি অনুভূত হতো, তা আর নেই।
তবে ঘাবরানোর কিছু নেই—
এই সিগন্যাল দেওয়ার কয়েকদিন পর তিনি
পুনরায় সেই লিঙ্ক পুনঃস্থাপন করে দেন।
কিন্তু যদি পরের সকালেই সে বন্ধুদের আড্ডায় আবার বলে ফেলে—
“গত রাতে তাহাজ্জুদের জন্য ওযু করতে গিয়ে মনে হলো…”
তাহলে সংযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কোনও কমবয়সীর মনে প্রশ্ন আসতে পারে—
“আচ্ছা, তুমি কিভাবে জানলে? আল্লাহ কোন আয়াতে এটা বলেছেন?”
তাহলে আমরা এভাবে জানি—
ফরজ ইবাদতগুলো সবই সামাজিক,
অর্থাৎ সেগুলো আপনি জনসমক্ষে, জামাতে আদায় করবেন।
আর এটা স্বীকৃত যে, ফরজ ইবাদতে কেবল দায়িত্ব পালন হয়,
এগুলো দিয়ে
“তাকওয়া”
অর্জনের স্তর অতিক্রম হয় না।
যদি জুনায়েদ বাগদাদী বা হাসান বসরী হতে চান,
তাহলে সেই ধাপগুলো
“নফল ইবাদত”
দিয়ে অতিক্রম হবে।
দুটোর মধ্যে পার্থক্য হলো—
ফরজ আমাদের উপর অপরিহার্য,
এগুলো ছেড়ে দিলে শাস্তির ঘোষণা রয়েছে,
তাই শাস্তির ভয়ও ফরজ পালনে যুক্ত থাকে।
কিন্তু নফল ইবাদতগুলো পুরোপুরি
“ভালবাসার ইবাদত”,
অর্থাৎ এগুলো আমাদের উপর অপরিহার্য নয়,
এগুলো না করলে শাস্তি নেই,
তাই এগুলো পালনকারী যেন আল্লাহর প্রতি তাঁর প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশ করছে।
এখন বোঝার মতো বিষয় হলো—
ফরজ ইবাদতের বিপরীতে
নফল ইবাদতের শর্তগুলোর মধ্যেই যেন অন্তর্ভুক্ত আছে যে,
এসব একান্তে, নির্জনে আদায় করতে হবে।
যেমন—সুন্নাতগুলো ঘরে আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে,
আর সদকার ব্যাপারে বলা হয়েছে—
“এক হাত যেন অন্য হাতকেও না জানায়।”
সুতরাং নফল ইবাদতে আপনার একান্ততা ও গোপনীয়তা যত বেশি হবে,
আল্লাহর সান্নিধ্য তত বেশি হবে,
আর তাকওয়ার স্তর অতিক্রম হবে।
এখন আসি আসল বিষয়ে—
মুসলমান যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সঙ্গে
ওয়ান-টু-ওয়ান থাকে, তখন
সবচেয়ে বেশি কী করে?
তাহাজ্জুদ আদায়ে তার লাগে দশ মিনিট,
কিন্তু সে অনেকক্ষণ মসজিদের মাটিতে বসে
আল্লাহর সঙ্গে আলাপ করে,
আর সেই আলাপ দোয়ার আকারে হয়।
তাহলে যখন আপনি ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থায় থাকবেন,
তখন
“হে রাব্বুল ‘আলামীন / হে ইলাহুল ‘আলামীন”
এরকম বাক্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন—
কারণ ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থায়
আলামীনের মাধ্যমে কেন পুরো দুনিয়াকে এর মধ্যে টেনে আনছেন?
কুরআনে নবীগণ আলাইহিমুস সালামের দোয়া দেখুন—
সবাই
“আমার রব…”
বলে আল্লাহর সঙ্গে একান্ত আলাপ করেছেন।
এখানে স্পষ্ট করে বলি—
আমরা মোটেও বলছি না যে, ব্যক্তিগত দোয়ায়
“রাব্বুল ‘আলামীন”
বলা ভুল—
সেই দোয়াও কবুল হবে,
কিন্তু তাকওয়ার বিশেষ স্বাদ তাতে থাকবে না।
তাকওয়ার রাস্তা আসলে এমন এক গোপনীয়তার রাস্তা—
যেখানে এমন মানুষ সব যুগেই থেকেছে,
যারা এটাকে গোপন রাখার জন্য
এমন পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণ অবলম্বন করেছে
যাতে তাদেরকে তাকওয়াবান মনে করার সুযোগই না থাকে।
এদেরকে বলা হয়—
“মালামতি”।
তাই প্রিয় প্রাণ, মালামতি হয়ে যান,
আর ওয়ান-টু-ওয়ান থাকুন!
- উর্দু থেকে অনুবাদিত।
