গৃহস্থালি কাজে নারীর করণীয়

গৃহস্থালি কাজে নারীর করণীয় post thumbnail image

 


গৃহস্থালি কাজে নারীর করণীয়: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

ভূমিকা

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখানে জীবনের প্রতিটি দিকের নির্দেশনা রয়েছে।

পরিবার গঠনে নারীর যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি গৃহস্থালি কাজেও তাঁর দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

যদিও ইসলামে গৃহকর্ম নারীর একক দায়িত্ব নয়, তথাপি তিনি যদি স্বেচ্ছায় ও আন্তরিকভাবে তা সম্পাদন করেন, তবে তা হবে একটি সওয়াবের কাজ। এ প্রবন্ধে গৃহস্থালি কাজে নারীর ভূমিকা ও ইসলামী নির্দেশনার আলোকে করণীয় তুলে ধরা হলো।


১. গৃহস্থালি কাজ: কর্তব্য না উপকার?

ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী গৃহস্থালি কাজ মূলত স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ফরয দায়িত্ব নয়, বরং তা পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়।

তবে যে সব ফ্যামেলির মেয়েদের গৃহস্থালি কাজে অভ্যাস ও প্রচলন আছে সে সব ফ্যামিলির মেয়েদের গৃহস্থালি কাজ করা জরুরী।

 


২. নবীজীর ঘরোয়া জীবন: আদর্শ উদাহরণ

হাদীস:

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতেই নিজের কাপড় সেলাই করতেন, জুতা ঠিক করতেন, ঘরের কাজ করতেন।”
— (সহীহ বুখারী)

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, গৃহস্থালি কাজ কেবল নারীর উপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সহযোগিতা করবে।


৩. গৃহস্থালি কাজের গুরুত্ব ও সওয়াব

যখন একজন নারী আন্তরিকতার সঙ্গে ঘরের কাজ করে, তা হয় একটি ইবাদতের কাজ।

হাদীস:

“একজন নারী যখন তার স্বামীর ঘর ভালোভাবে গুছিয়ে রাখে এবং সন্তুষ্টি বজায় রাখে, আল্লাহ তাতে তার জন্য জান্নাত লিখে দেন।”
— (তাবরানী)

ইমাম গাজ্জালী বলেন:

“নারীর সেবাদান, খাবার প্রস্তুত, সন্তান দেখভাল এসবই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।”
— (ইহ্ইয়াউ উলুমুদ্দীন)


৪. নারীর করণীয়: গৃহস্থালির বিভিন্ন দিক

ক. খাবার তৈরি ও পরিবেশন

  • পরিবারকে সুস্থ ও সন্তুষ্ট রাখতে হালাল ও পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা।
  • খাদ্যে অপচয় না করা।

খ. বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা

  • ইসলামে পরিছন্নতা ‘আধা ইমান’, তাই ঘর পরিষ্কার রাখা একটি ধর্মীয় দায়িত্বও বটে।

গ. সন্তানদের খেয়াল রাখা

  • তাদের স্বাস্থ্য, আদব-কায়দা ও দ্বীনী শিক্ষা দেখভাল করা।

ঘ. পরিবারের সদস্যদের মনোভাব বোঝা ও পরিবেশ রক্ষা করা

  • কেবল কাজ নয়, বরং আবেগ-অনুভূতির দিক থেকেও সাপোর্ট দেওয়া।

৫. গৃহস্থালি কাজ এবং আত্মমর্যাদা

ইসলামে গৃহকর্মকে হীনজ্ঞান করা হয়নি। বরং একে সম্মানের কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিশেষ করে নারীর মমতা, ভালোবাসা, যত্ন গৃহস্থালির কাজকে আলাদা মাহাত্ম্য দেয়।

হাদীস:

“নারী তার ঘরে একজন রক্ষক, এবং সে তার রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।”
— (সহীহ বুখারী)


উপসংহার

গৃহস্থালি কাজ একদিকে যেমন পরিবারের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক, তেমনি ইসলামি দৃষ্টিতে তা ইবাদতেরও অংশ হতে পারে—যদি তা আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়।

ইসলাম নারীকে গৃহকর্মে বাধ্য করেনি, কিন্তু তাঁর স্বেচ্ছায় করা প্রতিটি কাজে রেখেছে অশেষ সওয়াব।


তথ্যসূত্র:

  1. আল-কুরআন
  2. সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
  3. আল-মুগনী – ইবনু কুদাম
  4. আল-উম্ম – ইমাম শাফেয়ী
  5. ইহ্যাউ উলুমুদ্দীন – ইমাম গাজ্জালী
  6. মুজামুল আউসাত – তাবরানী

আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন আমীন

Leave a Reply

Related Post

পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয়পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয়

  পরিবারের প্রতি মেয়েদের করণীয়: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ভূমিকা পরিবার সমাজের মৌলিক একক। সমাজের কাঠামো মজবুত হয় পরিবার সুদৃঢ় হলে, আর পরিবার সুসংগঠিত হয় নারীর মাধ্যমে। একজন নারী একাধারে মেয়ে, বোন,

স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের উপায়স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের উপায়

  স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের উপায়: ইসলামী দৃষ্টিকোণ ভূমিকা দাম্পত্য জীবন ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম নারীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসাকে শুধু আবেগ নয়, বরং ইবাদতের স্তরে উন্নীত করেছে। একজন

শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ!শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ!

শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ! আজকের যুগে অনেকেই তাসাউফ বা সুফিবাদের নামে বিদআত, কুসংস্কার, নৃত্য, গান ও এধরণের বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের আশ্রয় নিচ্ছে। বড়পীর হযরত ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.)