শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ!
আজকের যুগে অনেকেই তাসাউফ বা সুফিবাদের নামে বিদআত, কুসংস্কার, নৃত্য, গান ও এধরণের বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের আশ্রয় নিচ্ছে।
বড়পীর হযরত ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.) বলেন:
“هذا هو التصوف، وإلا فكبر أربعًا”
قال الإمام الكبير الجنيد البغدادي رضي الله تعالى عنه:
“عِلْمُنَا مَضْبُوطٌ بِالكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، مَنْ لَمْ يَحْفَظِ الكِتَابَ، وَيَكْتُبِ الحَدِيثَ، وَلَمْ يَتَفَقَّهْ، لاَ يُقْتَدَى بِهِ”
অর্থ- “এটাই হল প্রকৃত তাসাউফ (আত্মশুদ্ধির পথ); আর যদি তা না হয়, তবে তার জানাজা পড়ে চার তাকবির দাও।”
হযরত ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.) বলেন:
“আমাদের জ্ঞান কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করে না, হাদীস লিখে রাখে না এবং ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী নয়, তাকে অনুসরণ করা যায় না।”
ইমাম জুনাইদ বাগদাদি রহ এর এই বাণী আজও প্রাসঙ্গিক।
কেননা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—তাসাউফ মানে শরীয়াহ-বিচ্যুতি নয়, বরং তাসাউফ মানে হলো শরীয়াহের গভীরে প্রবেশ করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা।
উক্তিটির বিশ্লেষণ:
১. “এটাই হল তাসাউফ, না হলে তার জানাজা পড়ে চার তাকবির দাও” – এর তাৎপর্য
এই উক্তিতে “তাসাউফ” বলতে এমন এক আত্মিক ও আধ্যাত্মিক সাধনার পথ বোঝানো হয়েছে, যা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসারী।
ইমাম জুনাইদ বাগদাদি রহ. এখানে সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন—
যদি কোনো ব্যক্তি ‘তাসাউফ’ বা ‘সুফিবাদ’-এর নামে শরীয়ত বিরোধী কথা বা কাজ করে, তবে সেটা প্রকৃত তাসাউফ নয়।
বরং, সেটি আত্মিক ধ্বংসের পথ, তার অস্তিত্ব নেই—এমনকি তার জন্য জানাজার চার তাকবির পড়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা উচিত।
এখানে “كبر أربعًا” বলা হয়েছে রূপক অর্থে—যেমন জানাজায় চার তাকবির বলা হয়। উদ্দেশ্য হলো, সে পথ মৃত—ব্যক্তিগতভাবে কিংবা দর্শনগতভাবে।
২. তাসাউফ ও শরীয়তের সম্পর্ক:
ইমাম জুনাইদ বাগদাদি, যিনি “সায়্যিদুত্তায়িফ” বা সুফিদের ইমাম হিসেবে পরিচিত, বলছেন—
“আমাদের জ্ঞান কুরআন ও হাদীস দ্বারা সংরক্ষিত”।
অর্থাৎ, কোনো সত্যিকারের সুফির জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা কুরআন ও সুন্নাহর সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কুরআন ও হাদীস ছাড়া কোনো আধ্যাত্মিক সাধনা বা ‘তাসাউফ’ গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. তিনটি মূল যোগ্যতা যাকে অনুসরণযোগ্য করে তোলে:
ক. يحفظ الكتاب — কুরআন সংরক্ষণ করা (মুখস্থ করা বা অন্তত গভীরভাবে জানা ও তদানুযায়ী আমল করা)
আল্লাহর বাণীকে জানাও আত্মশুদ্ধির মৌলিক উপাদান।
খ. يكتب الحديث — হাদীস সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করা
রাসূল (সা.)-এর বাণী ও জীবনচর্যা না জানলে কেউ ইসলামি আত্মশুদ্ধির পথে চলতে পারে না।
গ. يتفقه — ইসলামী আইন বা ফিকহ শিখে আমল করা
শরীয়তের নিয়ম-নীতি না জেনে কেউ আধ্যাত্মিকতার দাবি করতে পারে না।
এই তিনটি গুণ যার মধ্যে নেই, সে যতই ‘সুফী’, ‘পীর’, ‘মুর্শিদ’ দাবি করুক—তাকে অনুসরণ করা অনুচিত।
উপসংহার:
তাসাউফ ইসলামের রুহানিয়াত বা অন্তর্দৃষ্টি সাধনার নাম, কিন্তু এটি কখনো শরীয়তের বিকল্প নয়। বরং, কুরআন, হাদীস ও ফিকহের আলোকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার পথ।
ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.) এ কথার মাধ্যমে এই শিক্ষা দিয়েছেন যে—
“তাসাউফ যদি শরীয়তভিত্তিক না হয়, তবে তা ধোঁকাবাজি এবং তার কোনো মূল্য নেই।”
📌 সঠিক তাসাউফ হলো— শরীয়তের আলোকে আত্মশুদ্ধি।
📌 ভ্রান্ত তাসাউফ বা শরীয়তবিরোধী সুফিবাদ হলো— জানাজার উপযুক্ত, মৃত দর্শন।
আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে সকল প্রতারণা থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক তাসাওউফ দান করুন আমীন।
