ঘরের উন্নতি, জাদু-টোনা ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য নিয়মিত পড়ুন

ঘরের উন্নতি, জাদু-টোনা ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য নিয়মিত পড়ুন post thumbnail image
#ঘরের উন্নতি, জাদু-টোনা ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য
#সূরা_বাকারা, #আয়াতুল_কুরসী, #সূরা_ফালাক, #সূরা_নাস নিয়মিত তিলাওয়াত করুন বা যারা তিলাওয়াত পারেন না তারা নিচের লিংক থেকে শুনুন, এবং ঘরের অন্য সদস্যদেরকে শুনান ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত আছে যে,
«أَنَّ من قرأها في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ ولا يقربه شيطان حتى يصبح».
“যে ব্যক্তি এ আয়াতুল কুরসী রাত্রি বেলায় পাঠ করল, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন সংরক্ষণকারী সার্বক্ষণিকভাবে থাকবে এবং শয়তান সকাল হওয়া পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারবে না।” -বুখারী: ২৩১১।
* নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ»
“তোমরা যাহরাওয়াইন তথা পুষ্পদ্বয় পাঠ করো, তা হলো সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। কারণ এ দুটো সূরা কিয়ামতের দিন দু’টি মেঘমালার ন্যায় অথবা দু’দল পাখির ঝাঁকের মতো সারিবদ্ধভাবে উড়বে এমতাবস্থায় যে, তারা তাদের পাঠকদের পক্ষ নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করবে। (জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য অথবা জাহান্নামের ফিরিশতা যাবানিয়াদের সাথে)। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ করো। কারণ তা গ্রহণ (করা বা মুখস্থ) করায় রয়েছে বরকত আর তা পরিত্যাগ করায় রয়েছে পরিতাপ। আর কোনো ‘বাতালা’ অর্থাৎ জাদুকর এটা অর্জন করতে পারে না।’- মুসলিম: ৮০৪।
সহিহ ইবনে হিব্বান ও মুসতাদরেকে হাকিমে বর্ণিত হয়েছে,
রাসূল সাঃ বলেছেন,
.”প্রতিটি জিনিসেরই একটি কূজ/চূড়া রয়েছে। সূরা বাকারা হচ্ছে কুরআনের চূড়া। কেউ যদি এক রাতে এই সূরা তার গৃহে তিলাওয়াত করে তাহলে শয়তান তিন রাত পর্যন্ত তার ঘরে প্বেশ করতে পারে না।“
-ইমাম হাকিম রঃ এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
এছাড়াও বুখারী শরিফে আবু মাসউদ রা.এর সূত্রে বর্নিত হয়েছে যে,
রাসূল সাঃ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি রাতের বেলা এই সূরার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত করবে তার জন্য সেটি যথেষ্ঠ হবে।”
এছাড়াও এই সূরায় রয়েছে আয়াতুল কুরসি।
এর ফজিলতে অনেক হাদিস রয়েছে।
নাসায়ী ও জামে’ সগীরে বর্নিত আছে,
রাসূল সাঃ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করে, মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই তার জান্নাতে প্রবেশের পথে বাধা নেই।”
(এর সনদও সহীহ)
ইমাম তাবরানী ও নাসায়ি রঃ এর সূত্রে আত তারগিবে আলবানী রঃ আরেকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন-
“যে ব্যক্তি সন্ধায় আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে সে সকাল পর্যন্ত জ্বিনের অনিষ্ট থেকে হিফাজতে থাকবে। আর সে ব্যক্তি সকালে তা তিলাওয়াত করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিনের অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকবে।“

* অনুরূপভাবে ‘আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত,

«أن جبرئيل قال وهو عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا بَابٌ قد فتح من السماء ما فتح قط، قال: فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فأتى النبي صلى الله عليه وسلم أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِيٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهُمَا إِلَّا أُعْطِيتَهُ».

“জিব্রাঈল আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে থাকা অবস্থায় বললেন, এই দেখুন এটা একটা দরজা আকাশ থেকে খোলা হয়েছে- ইতোপূর্বে কখনো তা খোলা হয়নি।

রাবী বললেন, এরপর ওই দরজা থেকে একজন ফেরেশতা নাযিল হয়ে আল্লাহর নবীর সম্মুখে হাযির হয়ে বললেন:

আপনি দু’টো নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনার পূর্বে কোনো নবীকে দেয়া হয়নি,

সেটা হলো (১) সূরা ফাতিহা। (২) সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো,

আপনি এ দুটো তিলাওয়াত করে যে কোনো হরফ দ্বারা যা চাইবেন তা আপনাকে দেয়া হবে।” – মুসলিম: ৮০৬।

* ‘উকবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَلَمْ تَرَ آيَاتٍ أُنْزِلَتْ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ»
“তুমি কি দেখনি? আজ রাত্রিতে নাযিল হওয়া সেই আয়াতসমূহ! এরূপ আয়াত আর লক্ষ্য করা যায় না। সেগুলো হলো সূরা ফালাক ও সূরা নাস। তথা কুল ‘আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল ‘আউযু বিরাব্বিন নাস।” -মুসলিম: ৮১৪।
* নাসাঈতে এসেছে,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَمَرَ عقبة أن يقرأ بهما» ثم قال النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا سَأَلَ سَائِلٌ بِمِثْلِهِمَا وَلَااسْتَعَاذَ مُسْتَعِيذٌ بِمِثْلِهِمَا».
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উকবা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দিলেন এ সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করার জন্য।” তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কোনো প্রার্থনাকারী এ দুটো সূরায় বর্ণিত প্রার্থনার মত প্রার্থনা করে না। আর কোন আশ্রয়কারীও এ সূরায় বর্ণিত বিষয়ের মত আশ্রয় চায় না।” -নাসাঈ ৮/২৫৩, ২৫৪।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমলের তাওফিক দান করুক। আমিন।

Leave a Reply

Related Post

তিনি নবিজীর মা! শিক্ষণীয় ঘটনাতিনি নবিজীর মা! শিক্ষণীয় ঘটনা

তিনি নবিজীর মা! বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা. এর পিতা আব্দুল্লাহ, একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনা-কাটা করার জন্য। এক জায়গায় তিনি দেখলেন, এক লোক কিছু দাস- দাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্কইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। ইসলামে নারী-পুরুষ অধিকাংশ হুকুমে সমান; ব্যতিক্রম কেবল সেসব জায়গায় যেখানে শরীয়ত বিশেষভাবে আলাদা করেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্ট করে বলেছেন

শিশুদের হাতে মোবাইল দেওয়ার মারাত্মক ক্ষতিশিশুদের হাতে মোবাইল দেওয়ার মারাত্মক ক্ষতি

শিশুদের হাতে মোবাইল দেওয়ার মারাত্মক ক্ষতি রয়েছে। আসুন, আমরা ক্ষতিগুলোর দিকে এক নজর দিই— ১. মস্তিষ্কের বিকাশে ব্যাঘাত: এই বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। বেশি স্ক্রিন টাইম শিশুর শেখার