ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নারীদের করণীয় সংক্ষেপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো:
১. ঈমান ও ইবাদতে দৃঢ় থাকা
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা
- রমজানের রোজা রাখা
- কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করা
- সঠিক আকীদা ও বিশ্বাসে দৃঢ় থাকা
২. পর্দা রক্ষা ও শালীনতা বজায় রাখা
- পর্দার বিধান মেনে চলা (সূরা আন-নূর: ৩১, সূরা আহযাব: ৫৯)
- বেগানা পুরুষদের সঙ্গে অহেতুক কথাবার্তা ও মেলামেশা থেকে বিরত থাকা
৩. জ্ঞানার্জন ও শিক্ষালাভ
- ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষায় অগ্রসর হওয়া
- নিজের পরিবার ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনায় জ্ঞান ব্যবহার করা
৪. পরিবারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন
- স্বামী ও সন্তানদের হক আদায় করা
- পরিবারে শান্তি, ভালোবাসা ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা
৫. সদাচরণ ও চরিত্রবান হওয়া
- বিনয়ী, ধৈর্যশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া
- গীবত, পরনিন্দা ও কু-আচরণ থেকে বিরত থাকা
৬. দাওয়াহ ও সমাজসেবা
- নফস সংশোধনের পাশাপাশি অন্য নারীদের ইসলামের দিকে আহ্বান করা
- অসহায়দের সাহায্য করা
৭. স্বনির্ভরতা ও হালাল জীবিকা অর্জন (যদি প্রয়োজন হয়)
- ইসলামসম্মতভাবে পর্দা রক্ষা করে কাজ বা ব্যবসা করা (যেমন: হস্তশিল্প ইত্যাদি)
বিবাহিত নারীর করণীয়—
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিস্তৃত বিষয়।
একজন মুসলিম বিবাহিত নারীর জীবন পারিবারিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বে পরিপূর্ণ।
নিচে মূল করণীয় বিষয়গুলো ভাগ করে উপস্থাপন করা হলো:
১. স্বামীর প্রতি দায়িত্ব ও আনুগত্য
- স্বামীর হক আদায় করা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“যে স্ত্রী তার পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে—তাকে বলা হবে, ‘তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।’”
(মুসনাদে আহমাদ: ১৬৬১) - স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া
(তিরমিজি: ১১৬۳) - তার সম্মান রক্ষা করা ও মনোভাব বোঝা
২. পরিবারে শান্তি ও ভালোবাসা সৃষ্টি করা
- ভালো ব্যবহার, কোমল ভাষা ও ধৈর্যের সঙ্গে চলা
- শ্বশুর-শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্মান করা
- ঘরের পরিবেশ ইসলামি ও ইতিবাচক রাখা
৩. সন্তানদের ইসলামীভাবে গড়ে তোলা
- সন্তানদের নামায, শিষ্টাচার, পর্দা ও কুরআন শিক্ষায় উৎসাহিত করা
- তাদের প্রতি ভালোবাসা, তত্ত্বাবধান ও সময় দেওয়া
৪. নিজের ইবাদত ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকিরে সচেষ্ট থাকা
- ইসলামি জ্ঞান অর্জন করা ও প্রয়োজনে অন্যদের শিখানো
৫. পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা
- বাহিরে গেলে হিজাব পরা
- বেগানা পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক ও কথাবার্তায় সাবধান থাকা
৬. হালাল ও সংসারের সহায়ক ভূমিকা রাখা
- প্রয়োজনে হালাল পন্থায় আয় বা ব্যবসা করা (স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে)
- অপচয় না করে অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখানো
৭. স্বামীকে ইসলামী পথে উৎসাহ দেওয়া
- ভালো কাজে সহযোগিতা করা
- ভুল হলে নম্রভাবে পরামর্শ দেওয়া
- গীবত, ঝগড়া বা নেতিবাচক আচরণ এড়িয়ে চলা
উপসংহার:
একজন বিবাহিত মুসলিম নারীর জন্য জীবন একটি ইবাদত, যদি তা ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক চলে। সংসার জীবন যেন তার জান্নাতের পথে সহায়ক হয়, সে চেষ্টাই করা উচিত।
আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন আমীন।
