নফসকে ধোঁকা দিয়ে কাজ উদ্ধার করা

নফসকে ধোঁকা দিয়ে কাজ উদ্ধার করা post thumbnail image

হযরত শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লহ বলেন –

আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই সাহেব রহ. বলতেন যে,

*নফসকে একটু ধোঁকা দিয়ে তার থেকে কাজ উদ্ধার করে নাও।*

তিনি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমার প্রতিদিন তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস ছিল। বয়সের শেষের দিকে, দুর্বলতার জামানায় একদিন তাহাজ্জুদের সময় যখন চােখ মেলেছি, তখন তবীয়তের মধ্যে কিছুটা আলস্যভাব দেখা দিল। অন্তরে খেয়াল চাপলো যে, আজ তো শরীরটা কিছুটা অসুস্থ, আলসেমিও লাগে, বয়সও তো আর কম হয়নি। আর তাহাজ্জুদ নামাজ তো ফরজ-ওয়াজিব নয়, তাহলে শুয়ে থাকো। আর আজ যদি তাহাজ্জুদ না-ই-বা পড়লে তো কী হয়েছে?
তিনি বলেন, চিন্তা করলাম, কথা তো ঠিক যে, তাহাজ্জুদ কোনো ফরজ নয়- ‍ওয়াজিবও নয়, শরীরটাও সুস্থ নয়, তবে কথা হচ্ছে এ সময়টা তো আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার সময়।

হাদিসে এসেছে, যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ চলে যায়, তখন দুনিয়াবাসির উপর আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকেন, আছ কী কোনো মাগফিরাতের প্রত্যাশী, তাকে মাগফিরাত দেওয়া হবে।

তো এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত অযথা নষ্ট করা ঠিক নয়।
আমি নফসকে ভুলিয়ে দিলাম এবং বললাম যে, ঠিক আছে, এক কাজ করো উঠে বসে যাও। বসে গেলাম এবং দোআ করতে শুরু করলাম, দো‘আ করাকালীন নফসকে বললাম যে, উঠে যখন বসেই গিয়েছি, ‍ঘুম তো চলে গেছে। এখন বাথরুম পর্যন্ত চলে যাও। তারপর ইস্তেঞ্জা ইত্যাদি সেরে এসে প্রশান্তির সাথে শুয়ে পড়ো।
এভাবে যখন ইস্তেঞ্জা শেষ করলাম, তখন ভাবলাম ‍ওজুটা করে নাও না! কারণ, ওজুর সাথে দো‘আ করলে কবুল হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এভাবে ‍ওজুও করে নিলাম এবং বিছানায় এসে বসে দু‘আ শুরু করে দিলাম। এরপর নফসকে আবার বুঝালাম, বিছানায় বসে দু‘আ হচ্ছে বটে, তবে দু‘আ করার স্থান তো তোমার এখানে না।
যেখানে গিয়ে দু‘আ করার সেখানে ‍গিয়ে দু‘আ করো। অতঃপর নফসকে জায়নামাজে ‍নিয়ে গেলাম এবং দ্রুত দু রাকাত তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ফেললাম।

তারপর ডা. আব্দুল হাই সাহেব বলেন, *কখনো কখনো নফসকে একটু ধোঁকা দিয়ে ভুলিয়ে নিতে হয়। যেমনিভাবে নফস তোমাদের নেক কাজ নিয়ে টাল-বাহানা করে, তেমনি তোমরাও তার সাথে টালবাহানা কর এবং তাকে টানাটানি করে, জবরদস্তি করে কাজ উদ্ধার করে নাও। এই পদ্ধতিতে নেক কাজ করার তাওফিক হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।*

– ইসলাহি খুতুবাত, খন্ড : ৫

সংগৃহিত।

Leave a Reply

Related Post

স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের উপায়স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের উপায়

  স্বামীর ভালোবাসা অর্জনের উপায়: ইসলামী দৃষ্টিকোণ ভূমিকা দাম্পত্য জীবন ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম নারীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসাকে শুধু আবেগ নয়, বরং ইবাদতের স্তরে উন্নীত করেছে। একজন

দীনী উদ্দেশ্যে নারীদের সাথে যোগাযোগ – সতর্কতা ও নসীহতদীনী উদ্দেশ্যে নারীদের সাথে যোগাযোগ – সতর্কতা ও নসীহত

🌸 দীনী উদ্দেশ্যে নারীদের সাথে যোগাযোগ – সতর্কতা ও নসীহত 🌸   ধর্মপ্রাণ ছাত্রী ও দ্বীনদার নারীরা যখন কাউকে বুযুর্গ মনে করে তার সঙ্গে মৌখিক বা লিখিতভাবে যোগাযোগ করেন, তখন তা

মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যমায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য

  মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভূমিকা ইসলামে মায়ের মর্যাদা এমন এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত, যা অন্য কোনো সম্পর্ককে দেওয়া হয়নি। একজন মা শুধু একটি সন্তানের জন্মদাত্রীই নন, বরং একজন মুমিনের চরিত্র