সন্তান তারবিয়াতের জন্য করণীয় পদক্ষেপ

সন্তান তারবিয়াতের জন্য করণীয় পদক্ষেপ post thumbnail image

সন্তান তারবিয়াতের জন্য করণীয় পদক্ষেপ

এক দ্বীনি ভাইয়ের প্রশ্ন:

সন্তানের তারবিয়াতের জন্য কেমন মেয়ে বিয়ে করা উচিত, যে স্বামীর কথার উপর প্রাধান্য দিয়ে নিজের বেদ্বীনী মতামতকে চাপিয়ে দিতে পারে, এরকম মেয়ে?
সন্তানের দ্বীনদারীর জন্য কোথায় পড়ানো তুলনামূলক নিরাপদ – স্কুল/মাদ্রাসা?
আমি আমার ছেলে/মেয়েদেরকে স্কুলে পড়তে দিয়ে তাওয়াক্কুল করবো নাকি মাদ্রাসায় দিয়ে?

সমাধান:
১. স্ত্রী হিসেবে তাকওয়াবান, বিনয়ী, সহানুভূতিশীল ও দ্বীনদার নারীকে বেছে নিন, যিনি স্বামীকে নেতৃত্ব দিতেই দেন, নিজের মত প্রকাশ করেন, কিন্তু চাপিয়ে দেন না।

নবী ﷺ বলেন:

> تُنكَحُ المرأةُ لأربَعٍ: لمالِها، ولحسبِها، وجمالِها، ولدينِها، فاظفَرْ بذاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يداكَ
“নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: তার ধন, বংশ, সৌন্দর্য এবং দ্বীনের কারণে। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও, তা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সন্তানদের দ্বীন শিখানোর প্রধান হাতিয়ার তার মা।

একজন ভালো মা এমন হবে, যে স্বামীর সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু নিজের দ্বীনের ব্যাখ্যা তুলে ধরতে সক্ষম, কখনো জেদ বা চাপ প্রয়োগকারী নয়।

যে আখিরাতকে দুনিয়ার ওপর অগ্রাধিকার দেয় এবং সন্তানদেরকে আল্লাহর বান্দা বানাতে চায়, সমাজের চাকর বানাতে নয়।

বিপদজনক হচ্ছে:

যে নারী নিজে দ্বীনের প্রতি উদাসীন,

স্বামীর কথাকে অগ্রাহ্য করে নিজের বেদ্বীনী মত চাপিয়ে দেয়,

সন্তানকে দ্বীন নয়, দুনিয়াই শিখাতে চায়,
তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে সন্তানের তারবিয়াতে বড় ক্ষতি হতে পারে।

২. সন্তানকে এমন প্রতিষ্ঠানে দিন যেখানে দ্বীনি পরিবেশ আছে।

কেবল দুনিয়াবি স্কুল নয়, বরং এমন মাদ্রাসা বা সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে দ্বীনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে লক্ষণীয় বিষয়:

✅ দ্বীনি পরিবেশ আবশ্যক।

❌ দ্বীনি পরিবেশ নেই।

✅ পর্দা ও আদব শেখানো হয়।

❌ পোশাক/আচরণ অবাধ।

✅ নিয়ন্ত্রিত সৎ সঙ্গ

❌ বন্ধু পরিবেশ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকি

✅ সঠিক আকীদা-বিশ্বাস ও শরিয়ত শেখে।
❌ লিবারেল চিন্তা প্রসারিত হয়

✅ শরীয়াহ বিরোধী কার্যকলাপ থাকে না।

❌ শরীয়াহ বিরোধী কার্যকলাপ থাকে

৩. আপনি পিতা হিসেবে দ্বীনদার পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, প্রতিদিন খোঁজ নেবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বদলাতে পারেন, কিন্তু আপনার নজরদারি ও দায়িত্ব বদলানো যাবে না।
নজরদারিতে রেখে তারপর তাওয়াক্কুল করবেন।

আপনি যদি সন্তানকে শুধু স্কুলে পাঠান এবং “তাওয়াক্কুল” করেন, অথচ সেখানে সে ইসলামী মূল্যবোধ শেখে না, তাহলে তা আসলে তাওয়াক্কুল নয়, অবহেলা।

সত্যিকারের তাওয়াক্কুল হলো—উপযুক্ত ইসলামি মাধ্যম বেছে নিয়ে সেখানে চেষ্টা করা, তারপর ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর উপর নির্ভর করা।

আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন আমীন।

Leave a Reply

Related Post

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্কইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। ইসলামে নারী-পুরুষ অধিকাংশ হুকুমে সমান; ব্যতিক্রম কেবল সেসব জায়গায় যেখানে শরীয়ত বিশেষভাবে আলাদা করেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্ট করে বলেছেন

হিজাব ও পর্দা: কিছু কথাহিজাব ও পর্দা: কিছু কথা

হিজাব ও পর্দা : কিছু সহজ-সরল কথা পর্দা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কুরআন মজীদের কয়েকটি সূরায় পর্দা-সংক্রান্ত বিধান দেওয়া হয়েছে। পর্দার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা সকল শ্রেণীর ঈমানদার নারী-পুরুষকে সম্বোধন করেছেন। নবী

দুনিয়াতেও সেরা, আখিরাতেও সেরা।দুনিয়াতেও সেরা, আখিরাতেও সেরা।

দুনিয়াতেও সেরা, আখিরাতেও সেরা! দুনিয়াতে সেরা হওয়া আর আখিরাতে সফল হওয়ার মধ্যে কোনও স্বাভাবিক সংঘাত নেই—বরং আল্লাহর বিধান মেনে, আখিরাতের হিসাব ঠিক রেখে দুনিয়াতে সেরা হলে, সেটাই আখিরাতেও উন্নতির পথ