রিযিক বৃদ্ধির আমল

রিযিক বৃদ্ধির আমল post thumbnail image

রিযিক বৃদ্ধির আমল

মানুষমাত্রই চান রিজিকের বৃদ্ধি ঘটুক এবং আয়-উপার্জনে বরকত আসুক।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অনেক এমন আমলের বর্ণনা এসেছে, যার মাধ্যমে রিজিকে সমৃদ্ধি আসতে পারে…

১. তওবা-ইস্তিগফার করলে রিজিক বাড়ে
আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান করবেন।’
(সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২; সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৮২)

২. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে রিজিক বাড়ে
যেসব কাজকর্ম বা আমলে রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটে; তার মধ্যে তাকওয়া-পরহেজগারি অবলম্বন করা এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা অন্যতম। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেবেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না ।’
(সুরা সাদ, আয়াত: ৩৫)

৩. হজ-ওমরাহ পালন করলে রিজিক বাড়ে
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)–র বিবরণে আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা লাগাতার হজ ও ওমরাহ পালন করতে থাকো। কারণ, এর দ্বারা এমনভাবে অভাব ও গুনাহ দূরীভূত হয়; যেমনভাবে কামারের হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়।’
(তিরমিজি, হাদিস: ৮১০; নাসায়ি, হাদিস: ২,৬৩১)

৪. হিজরত করলে রিজিক বাড়ে
আল্লাহ–তাআলার রাস্তায় হিজরত করা ও জিহাদে অংশগ্রহণ করার দ্বারা রিজিকে বরকত হয়। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ–তাআলার রাস্তায় হিজরত করবে; জমিনে বহু আশ্রয়স্থল ও সচ্ছলতা পাবে সে।’
(সুরা নিসা, আয়াত: ১০০)

৫. সময়মতো নামাজ আদায় করলে রিজিক বাড়ে
সময়মতো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে রিজিক বাড়ে। নামাজ আদায় করার ফাঁকে ফাঁকে কাজ ও ব্যবসা–বাণিজ্য করতে হবে; কাজ ও ব্যবসা–বাণিজ্য করার ফাঁকে ফাঁকে নামাজ নয়। একই সঙ্গে আল্লাহ–তাআলার ইবাদত পালনে নিজেকে ঝামেলামুক্ত করতে হবে। আল্লাহ–তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর আপনি পরিবার-পরিজনকে নামাজ আদায়ের আদেশ দিন এবং নিজেও তার ওপর অটল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমিই আপনাকে রিজিক দিই। আর মুত্তাকিদের জন্যই শুভ পরিণাম।’
(সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২)

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখলে রিজিক বাড়ে
রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম আরেকটি আমল হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করতে এবং তাঁদের হক যথাযথভাবে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ–তাআলা।
(সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬; সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৬)

  • সংগৃহিত

Leave a Reply

Related Post

কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?

কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন? কখন কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন? সব সমাজেই এসব বিষয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুসলমানরা এসব প্রসঙ্গের সমাধান করেছেন খুবই ব্যবহারিক জায়গা থেকে। ক) নবীজি

শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ!শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ!

শরীয়ত বিরোধী মারেফত – মরার পথ! আজকের যুগে অনেকেই তাসাউফ বা সুফিবাদের নামে বিদআত, কুসংস্কার, নৃত্য, গান ও এধরণের বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের আশ্রয় নিচ্ছে। বড়পীর হযরত ইমাম জুনাইদ বাগদাদি (রহ.)

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্কইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। ইসলামে নারী-পুরুষ অধিকাংশ হুকুমে সমান; ব্যতিক্রম কেবল সেসব জায়গায় যেখানে শরীয়ত বিশেষভাবে আলাদা করেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্ট করে বলেছেন