শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..!
যখনই আমাদের কাছ থেকে কোনো ভুল হয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় তালিকা বের করে ফেলি—দশটি অজুহাত, পাঁচটি ব্যাখ্যা, তিনটি যুক্তি, আর শেষে আধা বাক্য ক্ষমার।
যেন নিজের দোষ প্রমাণ না করাটা আমাদের দায়িত্ব! অথচ অন্তর জানে যে দোষ আমাদেরই, কিন্তু জিহ্বা চুপ থাকে না। আর যখন জিহ্বা যুক্তি দেয়, তখন ক্ষমা চাওয়ার প্রভাব কমে যায়।
সহজ উপায় হলো—এক মুহূর্তে, এক বাক্যে সরাসরি বলে দিনঃ “আমার ভুল হয়েছে, আমি দুঃখিত।”
না কোনো অজুহাত, না বিশদ বিবরণ, না আবহাওয়ার অভিযোগ, না পথের কষ্টের কথা। আর বিশ্বাস করুন, সামনের মানুষটি নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা করে দেয়—বরং অনেক সময় ভালোবাসা ও সম্মান আরও বেড়ে যায়।
এমন যেন না হয় যে ক্ষমার সঙ্গে আরও চারটি জিনিসের প্যাকেট জুড়ে দিলেন। যেমন—দীর্ঘ পথ, প্রবল বৃষ্টি, খারাপ আবহাওয়া—“হ্যাঁ, আমি দেরি করেছি, কিন্তু বৃষ্টি অনেক ছিল… গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল… বাচ্চারা অসুস্থ ছিল… রাস্তা বন্ধ ছিল…”—সব কথা ঠিক হতে পারে, কিন্তু যখন আমরা ক্ষমা চাই, তখন তার একটি আলাদা মর্যাদা থাকে। এর খাঁটি হওয়া জরুরি—যেন জ্বলন্ত আগুনে পানি ঢালা।
এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেনঃ “জীবনে যদি ভুল হয়ে যায়, তাহলে সত্যি কথা বলে ক্ষমা চাইতে হবে। মানুষ ক্ষমা করে দেয়, কিন্তু মিথ্যা মনে রাখে।”
মনে রাখবেন, আপনি যদি বাড়িতে কোনো ছোট শিশুকে প্রতিশ্রুতি দেন এবং তা পূরণ করতে না পারেন, তবে সরাসরি বলে দিন—“আমাকে ক্ষমা করো, আমি প্রতিশ্রুতি রাখতে পারিনি।” আপনি দেখবেন, সে শিখবে যে ক্ষমা চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং মহত্ত্ব। আমরা শিশুদের পৃথিবীর নানা কিছু শেখাই, কিন্তু এই সহজ বাক্যটি শেখাই না—“আমি দুঃখিত।”
একটি বিখ্যাত কুরিয়ার কোম্পানির স্লোগান মনে পড়ে—
“We deliver goods, not excuses.”
অর্থাৎ—আমরা পণ্য পৌঁছে দিই, অজুহাত নয়।
তাহলে আমরাও আজ থেকে শিখে নিই—ভুল হলে, শুধু সোজাসাপ্টা ক্ষমা চাইব। কোনো মন্তব্য ছাড়াই, কোনো সাফাই ছাড়াই। আর এই কাজ শুধু সম্পর্ক বাঁচায় না, বরং আপনার মর্যাদা, সম্মান ও স্থান বাড়ায়, সম্পর্ককে মজবুত করে।
তাই, যদি আমার কোনো কথায় আপনার কষ্ট লেগে থাকে, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর আপনার কাছ থেকেও যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে এই বার্তাটি তাদের ফরওয়ার্ড করে দিন।
আল্লাহ আপনাকে সহজি প্রদান করুন।
— জাভেদ আখতার আরাইন
২৯ জুলাই ২০২৫
উর্দু থেকে অনুবাদিত।
(লেখাটি পড়ুন আমল করার নিয়তে, আর সদকায়ে জারিয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে আপনার প্রিয়জনদের সঙ্গে শেয়ার করুন—হতে পারে আপনার সামান্য প্রচেষ্টা বা চেষ্টা কারো জীবনের পরিবর্তনের মাধ্যম হয়ে যাবে।)
