সন্তানের জন্য জরুরী দুয়া

সন্তানের জন্য জরুরী দুয়া post thumbnail image

“সন্তান প্রায় সবারই থাকে।
তবে শুধু সন্তান থাকা নয়, তাদের যথাযথ লালন-পালন, দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষা প্রদান, শিষ্টাচার ও আদর্শ নৈতিকতা দিয়ে গড়ে তোলা—এটাই পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তবে একথা ভুলে গেলে চলবে না—হিদায়াত আল্লাহ তাআলার হাতে।

আমরা চাইলেই কাউকে সৎপথে চালাতে পারি না।

তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে—
সন্তানের হিদায়াত ও নেক আমলের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাওয়া এবং বেশি বেশি দুআ করা।

কারণ হিদায়াত আল্লাহরই দান, আর তিনি যাকে চান তাকেই সঠিক পথে পরিচালিত করেন।”

নিশ্চয় সন্তানের জন্য করা নেক দুআ শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং একজন মা-বাবার দায়িত্ব ও ভালোবাসার নিদর্শন।

কুরআন ও হাদীসে সন্তানদের জন্য কিছু অতি সুন্দর ও শক্তিশালী দুআ পাওয়া যায়।

নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দুআ অর্থসহ তুলে ধরছি:

১. সন্তানকে সৎ ও হিদায়াতপ্রাপ্ত রাখার জন্য:

> رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
“হে আমার রব! আমাকে ও আমার বংশধরদের নামায কায়েমকারী বানিয়ে দাও। হে আমাদের রব! আমার দুআ কবুল করে নাও।”
(সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০)

২. সন্তানদের জন্য শান্তি ও চোখের শীতলতা কামনায়:

> رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
“হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রীদের এবং সন্তান-সন্ততিদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানাও।”
(সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

৩. সন্তানের ঈমান ও নেক আমলের জন্য:

> اللَّهُمَّ اهْدِ أَوْلَادِي، وَاجْعَلْهُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ
“হে আল্লাহ! আমার সন্তানদের হিদায়াত দাও এবং তাদেরকে সৎকর্মশীল বানাও।”

৪. সন্তানকে শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য (নবজাতকের জন্য প্রিয় দুআ):

> أُعِيذُك بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
“আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তোমাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছি, প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী ও বদনজর থেকে।”
(বুখারি)

আল্লহ তাআলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন ও আমাদের সকলের সন্তানদের হেফাজত করুন এবং নেক বান্দাদের মধ্যে গণ্য করুন, আমীন।

Leave a Reply

Related Post

কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন?

কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন? কখন কী শিখবেন, কতটুকু শিখবেন? সব সমাজেই এসব বিষয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুসলমানরা এসব প্রসঙ্গের সমাধান করেছেন খুবই ব্যবহারিক জায়গা থেকে। ক) নবীজি

শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..!শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..!

শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..! যখনই আমাদের কাছ থেকে কোনো ভুল হয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় তালিকা বের করে ফেলি—দশটি অজুহাত, পাঁচটি ব্যাখ্যা, তিনটি যুক্তি, আর

সবকাজে শুরুতে বিসমিল্লাহ কেন?সবকাজে শুরুতে বিসমিল্লাহ কেন?

*”প্রত্যেক কাজে বিসমিল্লাহ বলার রহস্য”* ইসলাম প্রত্যেক কাজে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করার নির্দেশ দিয়ে মানুষের গোটা জীবনের গতিই অন্য সকল কিছুর দিক থেকে সরিয়ে নিয়ে একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে।