দুয়ার পরও যদি গুনাহ হয়ে যায়

দুয়ার পরও যদি গুনাহ হয়ে যায় post thumbnail image

*◼️দুআর পরে যদি গুনাহ হয়ে যায়*

হযরত শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লহ বলেন,

আমাদের হযরত ডাক্তার সাহেব (রহ.) বলেন যে, যখন তোমরা এই দুআ করলে, হে আল্লাহ, আমাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দিন। কিন্তু এই দুআ করার পরে তোমরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে গেলে।

এর অর্থ হলো দুআ কবুল হয়নি।

দুনিয়ার ক্ষেত্রে তো এই উত্তর দেওয়া হয়েছিল যে, বান্দা যে জিনিস চাইতেছিল, যেহেতু তা বান্দার জন্য উপযোগী ছিল না, এ কারণে আল্লাহ তাআলা ওই জিনিস দেননি; বরং অন্য কোনো জিনিস দিয়েছেন।

*কিন্তু এক ব্যক্তি এই দুআ করল যে, হে আল্লাহ, আমি গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই, আমাকে গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক দিন। তাহলে এখানেও কি এই উত্তর দিতে পারে যে, গুনাহ থেকে বাঁচা ভালো ছিল না। এর চেয়ে ভালো অন্য কোনো জিনিস ছিল, যা আল্লাহ তাআলা এই দুআকারীকে দিয়েছেন?*

*◼️তওবার তাওফিক ভিন্নভাবে হয়ে যায়*

বিষয়টি মূলত এই যে, গুনাহ থেকে বাঁচার এই দুআ কবুল তো হয়েছে। তবে এই দুআর প্রভাব এই হবে যে, প্রথমত ইনশাআল্লাহ গুনাহ একেবারেই হবে না।

আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে,

*গুনাহ হয়েও গিয়েছে। তাহলে অবশ্যই তাওবার তাওফিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এটা হতে পারে না যে, তওবার তাওফিক হবে না। অতএব দ্বীনের ক্ষেত্রে এই দুআ কখনও বিফলে যায় না।*

আর যদি গুনাহের পরে তাওবার তাওফিক হয়ে যায়, তাহলে ওই তাওবা কোনো সময় মানুষকে এত উঁচু করে দেয় এবং তার মর্যাদা এত সমুন্নত করে দেয় যে, কোনো সময় গুনাহ না করা অবস্থায় এই পরিমাণ মর্যাদা সমুন্নত হয় না এবং সে এত উচ্চতায় পৌঁছে না।

এ কারণে যে,

*ভুল হয়ে যাওয়ার পরে যখন আল্লাহ তাআলার কাছে, সে তাওবা করেছে, ক্রন্দন করেছে, কাকুতি-মিনতি করেছে, তখন আল্লাহ তাআলা এর ফলে তার মর্যাদা আরও বেশি সমুন্নত করে দিয়েছেন।*

*◼আমি তোমাদেরকে উঁচু মর্যাদায় সমুন্নত করব*

আমাদের হযরত ডাক্তার সাহেব (রহ.) বলতেন যে,

এই দুআ করা সত্ত্বেও যদি পা ফসকে যায় এবং গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাআলার প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করো না যে, আল্লাহ তাআলা আমার দুআ কবুল করেননি।

*আরে বেওকুফ! তোমার কি জানা আছে আমি তোমাকে কোথায় পৌঁছাতে চাই?

এ কারণে যে, যখন গুনাহ হয়ে যাবে, তখন আমি তোমাকে তাওবা করার সুযোগ দেবো।

এরপরে আমি তোমাকে আমার ক্ষমার চাদরে ঢেকে দেবো এবং আমার রহমত দ্বারা সিক্ত করব।

এ কারণে এই দুআকে কখনও বেকার এবং অনর্থক মনে করো না।*

সুতরাং এই দুইটা কাজ করতে থাক।

*১. হিম্মতের সঙ্গে কাজ করো এবং

২. দুআ করতে থাকো।*

তারপরে দেখো যে, কি থেকে কি হয়ে যায়? ইনশাআল্লাহ।

মওলানা রুমি (রহ.) বর্ণনা করেন,

گرچه رخنه نیست عالم را پدید

خیر و یوسف دار می باید دوید

যদিও এই দুনিয়াতে তোমাদের কোনো রাস্তা এবং কোনো আশ্রয়স্থল দৃষ্টিতে না আসে, চতুর্দিক থেকে গুনাহের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তোমরা পাগলের মত এমনভাবে পলায়ন করো, যেভাবে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম পলায়ন করেছিলেন।

*তোমরা যতটুকু পলায়ন করতে পারো অতটুকু পলায়ন করো, বাকিটুকু আল্লাহ তাআলার কাছে চাও।*

মোটকথা,

মানুষ যদি এই দুই কাজ করে –

এক, *নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করে*

এবং দ্বিতীয়টি হলো, *আল্লাহ তাআলার কাছে চায়*

তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, দুনিয়াতে কাময়াবীর সবচেয়ে বড় গুপ্তধন এটাই।

তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি – মুফতি তাকী উসমানি (দা.বা.)

Leave a Reply

Related Post

ওয়ান-টু-ওয়ান হয়ে যাই!ওয়ান-টু-ওয়ান হয়ে যাই!

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর বান্দার সঙ্গে “ওয়ান-টু-ওয়ান” থাকা খুব পছন্দ করেন। এমনকি এতটাই পছন্দ করেন যে, তিনি ধীরে ধীরে বান্দাকে তাঁর অস্তিত্ব সরাসরি অনুভব করিয়ে দেন। আর এই ব্যাপারটা

অনলাইন সেলেব্রেটির ধোঁকা থেকে বাঁচুনঅনলাইন সেলেব্রেটির ধোঁকা থেকে বাঁচুন

দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার জন্য প্রয়োজন হয় ইলম, আর এই ইলম একদিনে অর্জিত হয় না। দ্বীন মানে শুধু আবেগ নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যার ভিত মজবুত করতে হয় জ্ঞান, আমল

শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..!শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..!

শুধু ক্ষমা চেয়ে নিন..! যখনই আমাদের কাছ থেকে কোনো ভুল হয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় তালিকা বের করে ফেলি—দশটি অজুহাত, পাঁচটি ব্যাখ্যা, তিনটি যুক্তি, আর